প্রশান্ত শিকদার ও সোমনাথ দত্ত’ মালবাজার
এক সময় তেভাগা এবং চা শ্রমিক আন্দোলনের গর্ভগৃহ ছিল এই এলাকা। এক যুগের অবিসংবাদিত বাম নেতা প্রয়াত পরিমল মিত্রের নামানুসারে এলাকার নাম "পরিমল মিত্র নগর"। সেখানেই মাল এবং নাগরাকাটা বিধানসভা এলাকার কর্মীসভা করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের ডাক দিলেন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। রবিবার দুপুরে দুই বিধানসভার বাম নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনী কর্মীসভা। উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি "টি-টিম্বার-ট্যুরিজম"। চা বাগান অধ্যুষিত এই দুই বিধানসভা কেন্দ্র ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তনের দামামা বাজলেও মাল বিধানসভা কেন্দ্র নিজেদের অনুকূলে রাখতে সক্ষম হয়েছিল বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিআই(এম)। পরবর্তীতে ক্রমশ চা বাগান এলাকায় নিজেদের ক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে বামেদের। পুনরায় সেই ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এলাকার সংগঠনকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন ভাবে ঘর গোছাতে শুরু করেছে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই চা বাগান অধ্যুষিত এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে বুথওয়ারী সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। দুই বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথের কর্মী সমর্থকেরা এদিন নির্বাচনী কর্মীসভায় উপস্থিত হন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ভিড় জমান এলাকার নেতা,কর্মী ও সমর্থকেরা। নির্বাচনী কর্মীসভায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। সভায় বক্তব্যের শুরুতেই চা বলয়ের নেতৃত্ব তথা সিটুর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউর আলম চা বাগানের সংগঠনের ব্যাপ্তি বিস্তারে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। উঠে আসে বর্তমান সময়কালে রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই সরকার বিজেপি ও তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে আঁতাতের প্রসঙ্গ। দুই দলের যোগসাজোসেই কার্যত রাজ্যের সাধারণ মানুষ আজ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও বিজেপির দুই সরকারের উদাসীনতায় কার্যত উত্তরবঙ্গের চা বাগান গুলি আজ রুগ্ন। একের পর এক বাগান বন্ধ হয়েছে। শ্রমিকরা ক্রমশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। টান পড়েছে অর্থনীতিতে। আর এমতবস্থায় চা বলয়ে নিজেদের ক্ষয়িস্নু শক্তিকে পুনরুদ্ধার করে শ্রমিক মহল্লার পরিবারের সদস্যদের সংগঠিত করে লাল ঝাণ্ডার পুরনো গরিমাকে প্রতিষ্ঠিত করতেই বদ্ধপরিকর সিপিআই(এম) নেতৃত্ব।
একদিকে চা বাগানের শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, কৃষকের ফসলের দাম, শিক্ষিত যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের দাবি, চা বাগান, কলকারখানা সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে ক্ষুরধার আন্দোলনের পথে যেতে চায় বাম নেতৃত্ব। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জুজুধান তৃণমূল ও বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি-সংহতি বজায় রেখে সর্বস্তরের মানুষকে এককাট্টা করে শ্রমিক মেহনতি মানুষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আগামী বিধানসভা গঠনের ডাক দেওয়া হয় এদিনের নির্বাচনী কর্মীসভায়।
এদিনের নির্বাচনী কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৃজন ভট্টাচার্যের গলায় উঠে আসে বর্তমান সময়কালে রাজ্যের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই ক্ষমতাসীন দল। ক্রমশ রাজ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে বেকার যুবক যুবতীর সংখ্যা। যেখানে ক্রমশ দাবি উঠেছে কর্মসংস্থান, রুজি রুটি, সহ চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং কৃষকের ন্যায্য ফসলের দাম প্রসঙ্গ। সেই দাবিকে সামনে রেখেই ক্রমশ সমগ্র রাজ্য জুড়েই লড়াই আন্দোলনে নেমেছে বামপন্থীরা। রুটি রুজির দাবিকে সামনে রেখে লড়াই সংঘটিত করে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই আমাদের প্রার্থীরা লড়াই করবেন। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা, রুটি রুজির কথা, চা বাগানের শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি, কৃষকের ন্যায্য ফসলের দাম, কল-কারখানা, কাজের দাবিকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তৃণমূল ও বিজেপির বিভাজন ও আগ্রাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বামপন্থীদের লড়াইয়ের ময়দানে একশো শতাংশ লড়াই দিতে হবে। আর সেই লড়াইয়েরি ডাক এদিন দিলেন এস এফ আইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিনের নির্বাচনী কর্মীসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামলাল মুর্মু, শঙ্কর বিশ্বাস, প্রাক্তন বিধায়ক সোমরা লাকরা, সহ জেলা কমিটি, ও বিভিন্ন এরিয়া কমিটি সদস্য সহ কর্মী সমর্থকেরা।
Srijan Bhattacharya
নাগরাকাটায় কর্মীসভা, ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান সৃজন ভট্টাচার্যের
×
Comments :0