কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে বসতবাড়ি, নষ্ট হয়েছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজ ফসল। অথচ ঝড়ের তিন দিন পার হয়ে গেলেও দেখা নেই প্রশাসনের। মেলেনি সামান্য এক টুকরো পলিথিনও। প্রশাসনের এই চূড়ান্ত উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ খুট্টিমারি এলাকার বাসিন্দারা। রবিবার দিনভর গ্রামের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো গ্রামবাসী। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে গ্রামবাসীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রধান, উপপ্রধান ও পুলিশ কর্মীরা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিধ্বংসী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় দক্ষিণ খুট্টিমারি এলাকায়। বহু মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছে, উপড়ে পড়েছে গাছপালা। মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে কার্যত খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক ডজন পরিবার। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিপর্যয়ের তিন দিন কেটে গেলেও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান কিংবা ব্লক প্রশাসনের কোনো স্তরের প্রতিনিধিই তাঁদের খোঁজ নিতে আসেননি।
এদিন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গ্রামের রাস্তা অবরোধ করেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, "রাতের বেলা অন্যের বাড়িতে মাথা গুঁজতে হচ্ছে। প্রশাসন কি এতটাই অন্ধ যে আমাদের এই দুর্দশা চোখে পড়ছে না?" অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রধান ও উপপ্রধানকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন মহিলারা। দীর্ঘক্ষণ তাঁদের ঘিরে চলে স্লোগান। খবর পেয়ে পুলিশ এলে পুলিশকেও গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
বিক্ষোভকারীদের চাপে পড়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দীর্ঘ সময় পর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকা পরিদর্শনের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং জানানো হয় দ্রুত ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। এরপরই অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসীরা। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, স্রেফ ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, অবিলম্বে তাঁদের হাতে পলিথিন ও শুকনো খাবার পৌঁছে দিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সর্বস্বান্ত হওয়া দক্ষিণ খুট্টিমারির কৃষিজীবী মানুষ।
Dhupguri
ঝড়ে বিপর্যস্ত খুট্টিমারি, ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভে পথ অবরোধ গ্রামবাসীদের
×
Comments :0