থাইল্যান্ডের উত্তরের চিয়াং মাই শহরের একটি জনপ্রিয় পর্যটন পার্কে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৭২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী টাইগার কিংডম চিয়াং মাই নামের পর্যটনকেন্দ্রের দুই শাখায় চলতি বছরের ৮ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সংক্রামক ভাইরাসের কারণে বাঘের মৃত্যু মিছিল শুরু হয়েছে। চিয়াং মাইয়ের টাইগার কিংডমের দুটি শাখায় মোট ২৪০ টির বেশি বাঘ ছিল। মৃত বাঘের সংখ্যা পার্কে থাকা মোট বাঘের প্রায় ৩০ শতাংশ। কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, মৃত বাঘগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে পরে ছাই মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছে।
চিয়াং মাইয়ের প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাঘগুলির শরীরে সামান্য দুর্বলতা এবং অসুস্থতা ছাড়া আর কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। মৃত বাঘের শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনায় প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে বিবেচিত ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কিভাবে বাঘগুলো ‘কুকুর বিড়ালের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাতীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক সোমচুয়ান রতনমুয়াংক্লানন স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন আমার যখন বুঝতে পারি বাঘগুলি অসুস্থ, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। প্রাণী অধিকার সংস্থা পেটা এশিয়া সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে ‘‘এই বাঘগুলি যেভাবে বেঁচে ছিল - যন্ত্রণা, বন্দীদশা ভয়ে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পর্যটকরা যদি দূরে থাকেন, তাহলে এই স্থানগুলি শীঘ্রই অলাভজনক হয়ে উঠবে এবং এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেক কম হবে।’’ এই ঘটনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসের আক্রমণ যা সরাসরি বাঘের পাচনতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ। এতোগুলি বাঘের মৃত্যুতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোগের উৎস জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ এখন সংক্রমণের বিস্তার রোধে কাজ করে চলেছেন। কারণ রোগের উৎস জানা না গেলে আরও বেশি সংখ্যক বাঘের মৃত্যু হতে পারে। ইতিমধ্যেই পার্কের অনান্য বাঘগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
Thailand Tigers
দুই সপ্তাহে ৭২টি বাঘের মৃত্যু থাইল্যান্ডে
×
Comments :0