Ichamati River

চোরবাগানের ছাপ টাকিতে

রাজ্য জেলা

প্রবীর দাস : টাকি

নজরকাড়া জনারণ্য কার্যত শুনশান। পুলিশ প্রশাসনের নিরাপত্তা বেষ্টনীর গেঁড়োর পড়ে টাকির ইছামতি নদীতে ঐতিহ্যবাহী দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন আজ বিলীন হতে বসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারিতে এবং নানান ফরমান জারির কারণে নদীর বক্ষে পর্যটকদের নৌকা ভ্রমণ একপ্রকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারই মধ্যে টাকি সীমান্ত শহরের বিভিন্ন পূজাকমিটিগুলি সকাল সকাল টাকি রাজবাড়ি ঘাটে নিরঞ্জন করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ইছামতী নদী বরাবর কংক্রিটের পাঁচিল থাকলেও নিরাপত্তার কারণে তার পাশ দিয়ে পাশের ব্যারিকেট করা হয়েছে প্রায় এক কিলোমিটারের মতো।পাশাপাশি টোটো চালকদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে কোন রকম ভাবে প্রধান রাস্তায় যাতে না আসতে পারে। অন্যদিকে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন খাবার থেকে শুরু করে শিশুদের খেলনা নিয়ে বসতো রাস্তার দুই ধারে। সেসব এখন অতীত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে কোন রকম ভাবে রাস্তায় ভিড় করা যাবে না। ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানালেন, চোর বাগানের মতো ঘটনা যাতে এখানে না ঘটে তার জন্য এত নিয়মের কড়াকড়ি। পুলিশের বক্তব্য যদিও ভিন্ন। কেমন? একজন পুলিশ আধিকারিক জানালেন, নৌকা নিয়ে নদীবক্ষে প্রতিমা নিরঞ্জন বা ভ্রমণপিপাসুরা নদীবক্ষে ঘুরবে তার উপায় নেই। কী কারণ? অধীক টাকার দাবি করে বসছে নৌকার মালিকরা। দুচার ঘন্টা নদীবক্ষে ঘুরতে ১০-১৫ হাজার গ্যাটের কড়ি গুনতে হবে। তার উপর প্রতিমা বয়ে নদী ঘাটে আনা নৌকায় তোলা ইত্যাদি নিয়ে হরে গড়ে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ। ফলে নদীবক্ষে প্রতিমা নিয়ে নিরঞ্জন এবং তাকে কেন্দ্র বেশকিছু সময় শারোদোৎসবের শেষ আনন্দটুকুর‌ স্বাদ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা বিষাদময় করে তুলেছে এবারের টাকির প্রতিমা নিরঞ্জনের উৎসবমুখর পরিবেশকে। এছাড়া সব থেকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে টোটো ও অটো চালকদের। ইছামতি নদীর এপারে পশ্চিমবঙ্গের টাকি পর্যটনকেন্দ্র আর ওইপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্রীপুর গ্রাম।একসময় বাংলাদেশের একাধিক প্রতিমা নিরঞ্জন হতো এই শ্রীপুর ঘাটে সেই সময় দুই দেশের মিলন উৎসব ক্ষেত্র তৈরি হতো ইছামতি নদীর বুকে তাও সে সব এখন অতীত।

এহেন প্রেক্ষাপটে বুধবার ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টাকি রাজবাড়ী ঘাট চত্বর টিভি ক্যামেরা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ঘাটে লাগানো হয়েছে আনুমানিক ১৪ টি সিসিটিভি ক্যামেরা। নদীপথে বিএসএফ ও পুলিশের টহলদারি চলছে। তবে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য নদীর মাঝ বরাবর বিএসএফের টহলদারি শুরু হয়েছে নদীপথে। বিসর্জনের সময় কোন ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করতে পারবে না, তেমনি কোন বাংলাদেশি ভারতের সীমানায় প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য তীক্ষ্ণ নজর বিএসএফের।

Comments :0

Login to leave a comment