Armageddon

বাহিনীর মনোবল জোটাতে ধর্মীয় উপাখ্যানকে আঁকড়ে ধরছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক স্পটলাইট

Soptlipht

প্রিতম ঘোষ

ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত ইরানের। বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাচ্ছে। ধর্মীয় উপাখ্যানকে আঁকড়ে ধরে যুক্তি সাজাতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। 
ইরান যুদ্ধে বাহিনীর মধ্যে ধর্মীয় প্রচারকে ঘিরে জমা পড়ছে অভিযোগও। মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ) জানিয়েছে যে তারা মার্কিন সেনার বিভিন্ন বিভাগীয় বাহিনীর কাছ থেকে ১১০-টিরও বেশি অভিযোগ পেয়েছে।
প্রায় দু-দশক আফগানিস্তানে যুদ্ধের পর ২০২১-এ আমেরিকার সেনা পালিয়ে এসেছিল প্রাণ হাতে করে। মারাও গিয়েছেন প্রচুর সেনা। 
আফগানিস্তানের সেই অভিজ্ঞতার ফলে আমেরিকান সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকা বনাম ইরানের যুদ্ধের কারণ কী? 
বিভিন্ন অংশেরই বক্তব্য, সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াতে এই যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধের চেহারা দিতে নেমেছেন আমেরিকার সেনা প্রধানরা। সেনাদেরকে বলা হচ্ছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঈশ্বরের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন ‘আর্মাগেডন’-র জন্য। 
নিউ টেস্টামেন্টে ‘আরমাগেডন‘ হচ্ছে শুভ-অশুভের চূড়ান্ত সংঘাত। এই যুদ্ধে জিতলে নাকি যীশু খ্রীষ্ট আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং এক নতুন যুগের শুরু হবে, যেমন বাইবেলে লেখা আছে। মনোবল বাড়াতে আর যুদ্ধের যুক্তি খুঁজতে এখন ধর্মগ্রন্থকে আঁকড়ে ধরছেন আমেরিকার সেনা আধিকারিকরা।
ইরানে যুদ্ধ শুরু করার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন যে ইরানের ধর্মীয় শাসন ও স্বৈরাচারীর শক্তির বিরুদ্ধে এই লড়াই। ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনিকে মিসাইল আক্রমণে হত্যা করে আমেরিকা-ইজরায়েল। ট্রাম্প নাকি ইরানে গণতান্ত্রিক প্রশাসন তৈরি করবেন। বিশ্বের খুব কম লোকই একথা বিশ্বাস করছেন। আমেরিকাতেও ট্রাম্পের যুদ্ধের পক্ষে সম্মতি যথেষ্ট কম। আমেরিকাতেই ট্রাম্প প্রশাসন চলছে চূড়ান্ত খবরদারির নীতিতে। 
দেখা যাচ্ছে বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ বলে আন্তর্জাতিক রীতি, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিধিকে উড়িয়ে স্বৈরাচারী শক্তির মতো হানাদারি চালাচ্ছে আমেরিকা-ইজরায়েল অক্ষ।
ইউএস  সেনেটার এলিজাবেথ  ওয়ারেন একটি অত্যন্ত গোপন ব্রিফিংয়ের পর একটি ভিডিওতে বলছেন, "আপনাদের ভাবনার থেকেও ভয়ঙ্কর অবস্থায় রয়েছে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ। ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এই যুদ্ধ চলছে মিথ্যের ওপর ভিত্তি করে। ট্রাম্প প্রশাসন কোনও স্পষ্ট কারণ দেখাতে পারছে না এই যুদ্ধের। এই যুদ্ধ শেষ করার কোন পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের।’’ 
আরও এক মার্কিন সেনেটর এড মার্কি একটি ভিডিওতে বলেন, "ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি অবৈধ যুদ্ধ শুরু করেছেন। এই যুদ্ধের শেষ করার কোনও দিশা নেই। ইরানে আক্রমণের কারণ হিসেবে ট্রাম্প তাঁর অনুমানকে যুক্তি হিসেবে খাড়া করছেন। ইরানের  পারমানবিক অস্ত্রের ক্ষমতা সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলছেন। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি অন্তহীন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমেরিকাকে। ট্রাম্পের মিথ্যে জন্য আমেরিকানরা তাঁদের প্রাণ হারাচ্ছেন। এই যুদ্ধ অবিলম্বে থামা দরকার।"
ইউএস সেনেটর এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সাব কমিটির সদস্য ক্রিস মারফি সাংবাদিকদের বলেন, "আমেরিকান জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে একটি অন্তহীন যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প সরকার।" 
সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন যে মার্কিন কংগ্রেসের বাকি সদস্যরা এই যুদ্ধ থামানোর জন্য কী করছেন। 
তিনি বলেন, "যতক্ষণ না এই যুদ্ধের কোনও মীমাংসা হচ্ছে ততক্ষণ সংসদে আর অন্য কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করার উচিত নয়।’’ 
আমেরিকা কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এ যুদ্ধের বিপক্ষে আনা প্রস্তাব কান ঘেঁষে পরাজিত হয়েছে। ২১৯ সদস্য যুদ্ধের পক্ষে হাত তুললেও ২১২ সদস্য বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
মারফির বক্তব্য, কংগ্রেসের বহু সদস্য মনে করছেন যে যুদ্ধের ফলে আমেরিকাকে বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। বহু আমেরিকান নাগরিকের প্রাণ যাবে। মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর ইরানের ড্রোন হামলা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।  আমেরিকার কংগ্রেসেই জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশের সায় নেই যুদ্ধে। খরচ কোথায় দাঁড়াবে তার ঠিক নেই। যুক্তি খুঁজতে ধর্মীয় উপাখ্যানকে ব্যবহার করছেন ট্রাম্প।

Comments :0

Login to leave a comment