‘বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ’ প্রবাদ বাক্যটি কমবেশি সকলেরই জানা। অর্থাৎ বিনাশ আসন্ন ও অনিবার্য হয়ে উঠলে বুদ্ধি ও বিবেচনা উবে যায়। ঠিকঠাক কাজ করা যায় না। বাচালতা বাড়ে। কারণে অকারণে ভুলভাল বকে। কি বলে বা কি করে নিজেও জানে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হালও হয়েছে অনেকটা সেরকমই। কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলি হেলনে নির্বাচন কমিশন যেভাবে একের পর এক মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বস্ত ও অনুগত আমলাদের শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে তাতে মুখ্যমন্ত্রীর বেসামাল হবারই কথা। যে আমলাদের উপর ভরসা করে নির্বাচনে ‘জেতার’ ছক তৈরি করেছিলেন কমিশনের গুঁতোয় তা ভেঙে তছনছ হয়ে যাবার অবস্থা। তৃণমূলের দলদাস হিসাবে যারা তৃণমূলকে জেতানোর জন্য নির্লজ্জভাবে অবৈধ কাজে মদত দেয় ও সহযোগিতা করে তারা যদি নির্বাচন সংক্রান্ত গুরু দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন তাহলে নেত্রীর মস্তিষ্ক স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। পরাজয়ের বা ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক তাঁকে গ্রাস করবেই।
এক্ষেত্রে ক্ষমতা হারানোই আতঙ্কের প্রধান কারণ নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। আজ যে জয়ী কাল তার পরাজয় হতেই পারে। আজ যে দল শাসক কাল সে বিরোধী হতে পারে। তৃণমূল যেহেতু কোনও সুস্থ স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল নয় এবং গণতান্ত্রিক পথে সংবিধানকে অনুসরণ করে সরকার চালানোর দল নয় তাই তাদের ভয় ও আতঙ্ক বেশি। আসলে দলটাই আপদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। ১৫ বছর ধরে রাজ্যকে দুর্নীতি ও লুটের মৃগয়া ক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছে। এই দলে সৎ ও ন্যায় পরায়ন কোনও নেতা বা কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ধান্ধা ছাড়া কেউ তৃণমূল করে না। তৃণমূল করলে ধমক চমক দিয়ে দাদাগিরি করা যায়। পাইকিরি হারে তোলা তোলা যায়। ৭৫/২৫ ভাগে ভাগাভাগি করলে নিরাপত্তার পূর্ণ গ্যারান্টি। তথাকথিত মা মাটি মানুষের সরকার দুর্নীতি ছাড়া একটা কাজও কোনোদিন করেনি। তোলা না দিলে রাজ্যে কোনও কাজ হবে না। কোনও প্রকল্প হবে না। স্রেফ লুটেপুটে খাবার জন্য তৃণমূল আদর্শ রাজনৈতিক দল। এবার যদি ভোটে হেরে ক্ষমতা হারায় তাহলে দেড় দশকের সব দুর্নীতি, সব লুট, সব সন্ত্রাসের হিসাব দিতে হবে। তখন গোটা তৃণমূলটাই না জেলে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। অবশ্য কেন্দ্রে যতদিন মোদী সরকার আছে ততদিন তেমনটা হবার সম্ভাবনা কম। কারণ তৃণমূলকে রক্ষা করার দায় অঘোষিতভাবে বিজেপি’র। চুরি-দুর্নীতি-লুটের বহর এতটাই ব্যাপক যে শেষ পর্যন্ত বিজেপি কতটা রক্ষা করতে পারবে সন্দেহ আছে।
অতএব এই ঘোর দুর্দিনে মুখ্যমন্ত্রী আবোল তাবোল বকবেন, প্রলাপ বকবেন এটাই স্বাভাবিক। তা না হলে যার জন্ম ১৯৫৫ সালে তিনি গান্ধী হত্যার আগে আরএসএস-কে শ্রদ্ধা করার কথা বলবেন কেন? যিনি বলছেন গান্ধী হত্যার পর আরএসএস-কে শ্রদ্ধা করেন না, তিনি আরএসএস’র পূর্ণ সহায়তা নিয়ে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গড়লেন কীভাবে? আর তার পর থেকে বার বার আরএসএস-বিজেপি’র কেন্দ্রীয় সরকারে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হন কীভাবে? বিজেপি’র সঙ্গে জোট বেঁধে রাজ্যে নির্বাচনে লড়েন কী করে?
Editorial
প্রলাপ বাগীশ
×
Comments :0