M A Baby

সঙ্কট আসলে তীব্র, কালোবাজারি বন্ধ করুন গ্যাসের, মোদীকে চিঠি বেবির

জাতীয়

দেশে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট নিয়ে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। 
তিনি দাবি করেছেন যে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রোধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্রদের হস্টেলে প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরির মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অ্যাপে অর্ডারের মাধ্যমে খাবার দেন এমন গিগ শ্রমিকদের জীবিকা সঙ্কটে পড়েছে। তাঁদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  
সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ছোট রেস্তোরাঁর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। 
মোদী ভজনায় ব্যস্ত সংবাদমাধ্যম প্রধানমন্ত্রীর কৃতিত্ব প্রচারে ব্যস্ত এই কঠিন সময়েও। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সংসদে দেওয়া বিবৃতিতেও দেখানো হয়েছে যে সফলভাবে সঙ্কট সামলাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলে বিকল্প রাস্তা খুলেছেন। দাবি করা হচ্ছে যে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনও ঘাটতি নেই। চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছে বলে সমস্যা। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনতাকে একেবারে উলটো অবস্থার মুখ পড়তে হচ্ছে। 
চিঠিতে বেবি বলেছেন, "আমাদের দেশের জনগণের একটি বৃহৎ অংশ রান্নার গ্যাসের ঘাটতির কারণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের ফলে পেট্রোলিয়াম সহ গ্যাস সরবরাহ ব্যাঘাত হচ্ছে। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘‘ইরানের উপর মার্কিন-ইজরায়েল আগ্রাসন জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমস্যার মুখে ফেলেছে। ফলে মানুষ মারাত্মকভাবে দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে। সরকার ভর্তুকিযুক্ত এবং ভর্তুকি বহির্ভূত, দু’ক্ষেত্রেই রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের উপর ইতিমধ্যেই ভারী বোঝা রয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরের মানুষ রান্নার গ্যাসের তীব্র ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য তৈরি গ্যাস সিলিন্ডার কালোবাজারির ফলে ১,৫০০ টাকা থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে কালোবাজারি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া। যারা সব থেকে কঠিন অবস্থায় আছে তাদের কাছে গ্যাস পৌঁছানো নিশ্চিত করুন।’’ 
বেবি লিখেছেন, গ্যাসের অভাবের কারণে কিছু জায়গায় ছাত্রদের হস্টেল বন্ধ হয়েছে। বিভিন্ন হস্টেলে খাদ্যতালিকা কাটছাঁট করে অবস্থা সামলানো হচ্ছে। সঠিক খাবারের বদলে দেওয়া হচ্ছে কেবল ডাল বা সবজি। কয়েক জায়গায় আবার ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের হস্টেলে রান্নার গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। 
বেবি লিখেছেন যে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট বহু জায়গায় জীবিকার সঙ্কটও তৈরি করছে। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, অফিস ক্যান্টিন বন্ধ হচ্ছে। গিগ শ্রমিকদের যাঁরা খাবার বাড়িতে পৌঁছে দেন, ব্যাহত হচ্ছে তাঁদের রোজগারও। রান্নার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দাম বেড়ে গিয়েছে। এমনকি কাঠের জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়েছে। বেড়েছে ভোজ্য তেলের দামও।

Comments :0

Login to leave a comment