রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে আমেরিকার দেওয়া ৩০ দিনের ‘ওয়েভার’ বা বিশেষ ছাড়কে একটি অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতি বলে চিহডনিত করেছেন প্রখ্যাত জ্বালানি ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ড. আনাস আল-হাজ্জি। 'দ্য হিন্দুস্তান টাইমস'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো একটি শক্তিশালী দেশের রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প বা মার্কিন প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হবে?
তার কথায়, "ভারত একটি মহান দেশ। রাশিয়ার তেল কেনার জন্য তাদের কেন ট্রাম্পের অনুমতি নিতে হবে? এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।" তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষ এবং হরমুজ প্রণালী বা 'ইরমা স্পেস' দ্রুত নিরাপদ হয়ে যাবে। ড. আল-হাজ্জি প্রশ্ন করেন, "পরিস্থিতি যদি সত্যিই স্বাভাবিক হয়ে আসে, তবে ভারতকে কেন এই ৩০ দিনের ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে? এটি ইঙ্গিত দেয় যে পরিস্থিতি আসলে মোটেও স্বাভাবিক নয়।"
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক মাসে রোসনেফট এবং লুকঅয়েল -এর মতো রুশ সংস্থাগুলো থেকে ভারতের তেল আমদানি কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে জামনগরের রিলায়েন্সের মতো বড় রিফাইনারিগুলো সরাসরি আমদানি কমিয়ে দিয়েছিল।
তবে ড. আল-হাজ্জি তিনি জানান, ভারত কখনওই রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেনি। তিনি দাবি করেন, অনেক রুশ জাহাজ ওমানে গিয়ে মাত্র দু-এক দিনের মধ্যে ফিরে যাচ্ছে। ওমান থেকে ভারতীয় বন্দরের দূরত্ব খুবই কম।
ভারতীয় রিফাইনারিগুলো তথাকথিত 'ডার্ক মার্কেট' থেকে ডিসকাউন্টে রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ড. আল-হাজ্জির মতে, আসল সমস্যা ভারতের তেল কেনা নয়, বরং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা। এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। তিনি মনে করেন, এই সমস্যার সমাধান খুব সহজ ছিল।
তার কথায়, ইউরোপীয় বীমা কোম্পানিগুলো ট্যাঙ্কারগুলোর বীমা বাতিল করে দেওয়ায় জাহাজগুলো আটকে আছে। আমেরিকা যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) বলে এক মাসের জন্য তাদের বীমা আইনের কিছু ধারা স্থগিত রাখতে বলত, তবে এই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু কেন তা করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প বরাবরই তেলের কম দামের বিরোধী। এই ৩০ দিনের ছাড় আসলে একটি সাময়িক প্রলেপ মাত্র, যা গভীর অনিশ্চয়তাকে আড়াল করছে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ৩০ দিনের ওয়েভার শেষ হওয়ার পর ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের এই নির্ভরতা এবং আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে কতটুকু ঝুঁকির মুখে ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Russian Oil
আমেরিকার চাপে বাড়বে ভারতের জ্বালানির সঙ্কট, মনে করছেন আনাস আল-হাজ্জি
×
Comments :0