Supreme Court SIR

রাজ্যে এসআইআর’র সময়সীমা ৭দিন বাড়ালো সুপ্রিম কোর্ট

জাতীয়

৮৫২৪ জন এইআরও কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে রাজ্য, সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ জানালেন প্রাক্তন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ। কিন্তু সেই আধিকারিকদের নামে তালিকা কমিশনের কাছে নেই। মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছে যেই সব গ্রুপ বি আধিকারিকদের পাঠানো হচ্ছে তাদের নামের তালিকা তৈরি করতে সময় লাগবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে যেখানে তালিকা তৈরি নেই সেখানে কী ভাবে তারা আগামীকাল থেকে নির্বাচন কমিশনের কাজের সাথে যুক্ত হবেন।  রাজ্যে এসআইআর’র সময়সীমা ৭দিন বাড়ালো সুপ্রিম কোর্ট। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। তা পিছিয়ে গেল ৭দিন। 
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে রাজ্য সরকার যাদের নাম পাঠিয়েছে তারা যাতে আগামীকাল থেকে কাজ শুরু করতে পারে সেই বিষয় কমিশনকে নজর রাখতে হবে। তবে কমিশন জানিয়েছে তাদের কাজ বুঝতে এবং প্রশিক্ষণ দিতে দশ দিনের সময় লাগতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিন কমিশনে আদালতে জানিয়েছে ১৪ লক্ষ শুনানি রাজ্যে এখনও বাকি। শুনানিতে কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে রাজ্যের কাছে বার বার আধিকারিক চাওয়া হলেও রাজ্যের পক্ষ থেকে তাদের আধিকারিক দেওয়া হয়নি। 
নির্বাচন কমিশন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, কেন রাজ্য সরকার আধিকারিকদের তালিকা কমিশনকে ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য ৪ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করার জন্য। 
উল্লেখ্য কমিশনের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে বলেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার আগে এই ৮৫২৪ জন নতুন আধিকারিককে কী ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব? সুপ্রিম কোর্ট এর পরিপ্রেক্ষিতে বলে, ‘সিদ্ধান্ত আপনারা নিন। তারা শুধু সাহায্য করবে। আমরা বলছি না তারা কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন।’ 
সোমবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কোন সমস্যা হলে সুপ্রিম কোর্ট তাতে হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু এসআইআরের কাজে কোন ভাবে বাধা দেওয়া যাবে না। প্রধান বিচারপতি শুনানির মাঝে বলেন যে এখন ৮ হাজার ৫০০ আধিকারিকের নাম মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে রাজ্য সরকার পাঠিয়েছে। আগে পাঠানো হলে তা হয়ত অনুমোদন করা যেত। 
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি তখন বলেন যে নির্বাচন কমিশন কখনও রাজ্য সরকারকে গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম চেয়ে পাঠায়নি। রাজ্য সরকারকে নির্বাচন কমিশন এমন কোনও অনুরোধও জানায়নি। 
তার আগে নির্বাচন কমিশন দাবি করে যে আধিকারিকদের সম্পরকে বিশদ তথ্য পাঠানো হয়নি। মমতা ব্যানার্জির আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান পালটা দাবি করেন যে নামের তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনকে তা পাঠানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মমতা ব্যানার্জির পক্ষে সওয়ালে প্রশ্ন তোলা হয় বাইরের রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজার্ভার পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো নিয়ে। বলা হয় যে বাংলায় নাম এবং পদবির স্বাভাবিক পরিবর্তনকে না বুঝে তাকে লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি ধরা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে ডাকার কাজ চলছে। 
কমিশনের প্রধান যুক্তি যে রাজ্যের থেকে নাম চেয়ে না পাওয়ায় বাইরে থেকে আধিকারিক পাঠানো হয়। 
আধিকারিকদের নাম পাঠানোতে দেরি কেন সে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতিও। মমতা ব্যানার্জিকে তিনি বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম। তা’হলে কেন ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় ই-মেল করে নাম পাঠানো হলো?
গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলো থেকে আধিকারিক এনে ইচ্ছাকৃত ভাবে রাজ্যে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে ‘যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি‘র সমস্যা সমাধান করতে পারেন এমন আধিকারিকদের তালিকা কমিশনের কাছে দিতে হবে রাজ্যকে। সেই আধিকারিদের কমিশন নিয়োগ করবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সমস্যা সমাধান করার জন্য। কিন্তু সেই তালিকা এখনও পর্যন্ত দিতে পারেনি সরকার। সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআরে মানুষের হয়রানি নিয়ে সাওয়াল করছে, এই নিয়ে নির্বাচনের আগে বাজার গরম করতে নেমেছিল তৃণমূল। কিন্তু রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণে শোনা যায়নি এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি হওয়ার কথা। এদিন যেমন দেখা গেলো রাজ্য সরকার আধিকারিকদের তালিকা দিতে পারেনি কমিশনকে।
উল্লেখ্য এদিন যেই যেই মামলা গুলোর ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে তার মধ্যে মোস্তারি বানুর মামলা রয়েছে। তার হয়ে এদিন সওয়াল করেন আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি।

Comments :0

Login to leave a comment