পলাশ দাশ
এবারে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা দেওয়া প্রথম ভোটার কিংবা স্নাতক হতে চলা ছেলেটি বা মেয়েটি জ্ঞান হওয়া থেকে দেখছে মোদী আর মমতার সরকার। দুর্নীতি, দুষ্কৃতীরাজ, হিন্দু-মুসলমান ঘৃণা, বিদ্বেষ, দাঙ্গা, ধর্ষণ, বেকারি, বেহাল সরকারি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হতাশা, অস্থায়ী ও স্বল্প উপার্জন, ধনী-দরিদ্রের বেড়ে চলা বৈষম্যের মধ্যে তারা বড় হয়েছে, এবার ভোট দেবে। বাম সরকার দেখার সুযোগ এই প্রজন্মের হয়নি। তারা দেখছে আজকের অভাব, দারিদ্র, কষ্ট-যন্ত্রণা, হতাশা তাদের নিত্যসঙ্গী। গ্রামের পর গ্রামে ১৩/১৪ বছর বয়স হতেই স্কুল ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিক হচ্ছে। শহরে মধ্যবিত্ত উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে, ভিন দেশে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্যে কাজ নেই। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ চলে যাচ্ছে। গরিব, নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের পক্ষে বেসরকারি শিক্ষা কেনার ক্ষমতা নেই। কাজ মানে টোটো, অনলাইন ডেলিভারি বা বাইকে সওয়ারি বওয়া, ডিয়ার লটারির দোকান। একটাও কলকারখানা হয়নি। মোদী ও মমতা দু’জনেই সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ করেনি। চাষের খরচ বেড়েছে, ফসলের দাম নেই। জিনিসের দাম বাড়ছে। চুঁইয়ে আসা কাজ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা মানুষের গড় রোজগার মাত্র ১১ হাজার টাকা। চার হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা আয় এবং সে কাজও অস্থায়ী, সুরক্ষাহীন। দিনমজুর, স্কিলড লেবারের মজুরি বাংলার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কেরালা সহ অন্যান্য অনেক রাজ্যে।
নির্বাচনের ইস্যু
জীবন-জীবিকার বিষয় রাজ্যের নির্বাচনের ইস্যু নয়। পেইড মিডিয়ার সাহায্যে দুই শাসক দলই মন্দির-মসজিদ, ধর্মের নামে উত্তেজনা, হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে ভর করে ভোট পেতে চাইছে। ‘উন্নয়ন’ কিংবা ‘সব কা সাথ সবকা বিকাশ’ এখন কেউ বলে না। সব প্রতিশ্রুতিই যে জুমলা বা মিথ্যা তা প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে যাওয়ায় এখন জুমলাতেও তাদের আগ্রহ কম। ভোট এলেই এখন যে কোনোভাবে দাঙ্গা লাগাতে মরিয়া বিজেপি আর তাকে সহায়তা দেয় তৃণমূল। বিভাজনের অঙ্ক আছে। সেই অঙ্কের হিসাবে কার কটা আসন, কোন কোন আসন ঠিক করাই আছে ভোট কোম্পানিদের হিসাবে। সেই হিসাব অনুযায়ী কোথায় কার সবল, কোথায় দুর্বল প্রার্থী দেওয়া হবে, কোথায় প্রচার কতটা হবে তাও ভোট কোম্পানি ঠিক করেছে। এখন আরএসএস’র লেখা নাটকে যার যা পার্ট ভোট কোম্পানির পরিচালনায় তারা তা অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলছে।
ভোটের অঙ্ক
বিজেপি নামতা পড়ার মতো ৭০-৩০ বলে চলেছে। অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে ৬০ লাখ ভোটারকে বিচারাধীন ও ৮ লাখকে বাদ দিয়েছে। এদের অধিকাংশই খেটে-খাওয়া গরিব মানুষ। মতুয়া ও হিন্দু ভোটারদের অনেক বাদ গেলেও, অধিকাংশই ধর্মে মুসলমান। বিজেপি’র সরাসরি ভোটের অঙ্কে লাভ হবে, একইসাথে বিভাজন সৃষ্টি হবে। যাঁরা বাদ গেলেন, ভোট দিতে পারবেন না বা হেনস্তার শিকার হলেন তাঁদের পরিবারের বাকিরা প্রায় অধিকাংশই প্রবল ক্ষোভে বিজেপি’র বিরুদ্ধে ভোট দেবে।
২০১৯ থেকে দুই দল, দুই সরকার, মিডিয়াকুল নির্বাচনকে দুটি দলের মধ্যে আবদ্ধ রেখেছে। বাইনারি রাজনীতি, যার কেন্দ্রে আছে ধর্মীয় মেরুকরণ। অবশ্যই এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সরকারের অন্যায়, অপরাধ ও অপদার্থতার বিরুদ্ধে বিজেপি-কে দিয়ে সরকার পরিবর্তন করা যাবে বলে মনে করেছেন। আরএসএস, দুই দল ও মিডিয়ার প্রচারে তাঁরা প্রভাবিত হয়েছেন।
বামপন্থীদের কথা
তৃণমূলকে সত্যিই হারাতে হলে ধর্ম ভিত্তিক ভোট এবং দ্বি-দলীয় রাজনীতির ফাঁদের বাইরে আসতে হবে। বিজেপি ১২ বছর, তৃণমূল ১৫ বছর ক্ষমতায়। বাংলাকে নিঃস্ব, রিক্ত করায় দায়ী দুই সরকার। শিক্ষা, কাজ, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, মজুরি, নিরাপত্তা, সুরক্ষা, স্বচ্ছতা সব হারিয়ে বাংলা আজ খুবই বিপন্ন। এদের হাতে আরও ৫ বছর মানে আপনার পরিবারের, সন্তানদের ভবিষ্যৎ একেবারে ধ্বংস হওয়া। খাদের কিনারা থেকে বাংলাকে বাঁচাতে হলে, বামপন্থীরাই একমাত্র ভরসা।
তৃণমূলের জেতার রহস্য কি? সকলেই এই ধাঁধার উত্তর খুঁজছেন। ২০১৬ বিধানসভা ভোটের পর থেকে মিডিয়া প্রচার শুরু করে বামপন্থীরা শেষ, লড়াই তৃণমূল ও বিজেপি’র মধ্যে। কেন বিজেপি?
২০১৬ বিধানসভা ভোটে বিজেপি মাত্র ১০% ভোট পায়। বাম+কংগ্রেস পায় ৩৮.৬%, তৃণমূল ৪৫.৬%। ব্যবধান ৭%। বোঝা যাচ্ছে ২০২১ সালে তৃণমূল আর সরকারে আসতে পারতো না। বিজেপি-কে দিয়ে বামপন্থীদের ভোট কেটে, তৃণমূল সরকারকে সুরক্ষিত রাখার ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত সেইদিন থেকেই।
ভোট কাটুয়া কে?
তৃণমূলের জেতার রহস্য কি? সকলেই এই ধাঁধার উত্তর খুঁজছেন। ২০১৬ বিধানসভা ভোটের পর থেকে মিডিয়া প্রচার শুরু করে বামপন্থীরা শেষ, লড়াই তৃণমূল ও বিজেপি’র মধ্যে। কেন বিজেপি?
২০১৬ বিধানসভা ভোটে বিজেপি মাত্র ১০% ভোট পায়। বাম+কংগ্রেস পায় ৩৮.৬%, তৃণমূল ৪৫.৬%। ব্যবধান ৭%। বোঝা যাচ্ছে ২০২১ সালে তৃণমূল আর সরকারে আসতে পারতো না। বিজেপি-কে দিয়ে বামপন্থীদের ভোট কেটে, তৃণমূল সরকারকে সুরক্ষিত রাখার ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত সেইদিন থেকেই।
বিজেপি বলছে বামপন্থীদের জন্য নাকি তৃণমূল জিতে যাচ্ছে, তাই বামপন্থীদের ভোট দেবেন না। ভেবে দেখুন, বাংলায় বামপন্থীদের ইতিহাস সুদীর্ঘ কালের, স্বাধীনতার আগে থেকে। ৩৪ বছর বামফ্রন্ট সরকারের আগেও দুটো যুক্তফ্রন্ট সরকার চালিয়েছে তারা। খেটে-খাওয়া শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার লড়াইয়ের সাথি বামপন্থীরা। হাজার চেষ্টা করলেও বামপন্থীদের মুছে ফেলা যাবে না।
বিজেপি হঠাৎ আসা, ইতিহাস ও শিকড় বিহীন, সংগঠন বিহীন, মিডিয়া পরিচালিত এক দল। যারা বাংলাকে চেনে না। তৃণমূলের হাত ধরে, জোট করেই এদের বাংলায় প্রবেশ। জ্যোতি বসু বলতেন, মমতার সবচেয়ে বড় অপরাধ বিজেপি-কে বাংলায় আনা। একসময়ের জোটসঙ্গী তৃণমূল ও বিজেপি, বেশ কিছু বছর ধর্মীয় মেরুকরণ ও নকল যুদ্ধের আবহে জনগণকে বিভক্ত করে, একে অপরকে সাহায্য করে চলেছে। দু’জনেরই সাধারণ লক্ষ্য হলো, বামপন্থীদের ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা।
বিজেপি-কে দিয়ে তৃণমূলকে জেতানো যায়, হারানো অসম্ভব
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১২১ টি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল, তৃণমূল ১৬৪ টিতে। ২০২১ সালে বিজেপি’র স্লোগান ছিল "উনিশে শে হাফ, একুশে সাফ"। কিন্তু বিজেপি ১২১ থেকে নেমে এল ৭৭ আসনে। এত দুর্নীতি, অপরাধের পরেও তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১৬৪ থেকে বেড়ে হলো ২১৩ আসন।
কারণ ২০২৪ লোকসভা ভোটে তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণ ও দুই দলের সাজানো নাটকে মানুষ আবার বিভ্রান্ত হলেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এবার ১৮ থেকে নেমে এল ১২ টি আসনে। তৃণমূল ২২ থেকে বেড়ে হলো ২৯।
বিজেপি পারবে না কেন?
বিভাজনের এসআইআর-এ নাম বাদ দিয়ে বিজেপি যা লাভ পাবে, তার ঢের বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে তাদের। যাঁরা বাদ গেলেন, বিচারাধীন থাকলেন, তাঁদের পরিবারের অন্যান্য ভোটারদের সংখ্যা কমপক্ষে দেড়, দু'কোটি। এঁদের সবাই মুসলমান নন, আছেন প্রচুর মতুয়া, উদ্বাস্তু, তফসিলি জাতি-উপজাতি, আদিবাসী, মহিলা, প্রান্তিক অংশের মানুষ। এঁরা বিজেপি-কে হারাতে মরিয়া।
হিন্দু-মুসলমান বিভাজন যত তীব্র হবে, বিজেপি’র আস্ফালন যত বাড়বে সংখ্যালঘু মানুষ তত ভয়ে এককাট্টা হবে। সরকারে থাকা তৃণমূলের নিজস্ব ভোট, ভাতা-প্রকল্পের জন্য প্রাপ্ত কিছু ভোটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে আদ্যন্ত বিজেপি বিরোধী সেকুলার ভোটের একাংশ। আসলে তৃণমূল যাতে এই ভোট পেতে পারে তার জন্যই বিজেপি সক্রিয়।
বিজেপি কি তৃণমূলকে হারাতে চায়?
তৃণমূলকে না সরাতে পারলে বাংলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। শিক্ষা, কাজের সুযোগ বাংলায় কার্যত শেষ হয়েছে। ডিগ্রির কোনও মূল্য নেই বাংলায়। মজুরির হার অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় যৎসামান্য। ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে তরুণ প্রজন্মের। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণের আখড়া। দুর্নীতি, অপরাধ সরকার ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকিয়েছে তৃণমূল। সরকার, দুষ্কৃতী, আমলা, পুলিশের যোগসাজশে সীমাহীন অন্যায়, অপরাধ ঘটছে। অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে নারী সুরক্ষা, নিরাপত্তা উধাও। খতম হয়েছে গণতন্ত্র। এক মাফিয়া রাজত্ব কায়েম হয়েছে।
এতো অন্যায়ের পরেও দুর্নীতিগ্রস্ত, অপরাধীরা বহাল তবিয়তে রাজপাট চালাচ্ছে। একগাদা ভয়ঙ্কর দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-ইডি’র তদন্তের সৌজন্যে সবাই ছাড়া পেয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছে। আর জি করের খুন ও ধর্ষণের বিরলতম ঘটনাতেও সিবিআই আশ্চর্যজনকভাবে কলকাতা পুলিশের তদন্তকেই মান্যতা দিয়ে মামলাকে শেষ করে দিয়েছে। ভাইপোর স্ত্রী সোনাদানা নিয়ে এয়ারপোর্টে ধরা পড়লেও কেন্দ্রীয় বাহিনী সসম্মানে মালপত্র সমেত অভিযুক্তকে ছেড়ে দিয়েছে। কালীঘাটের কাকুর সাহেবকে স্পর্শ দূরের কথা ইডিসিবিআই কোথাও সাহেবের নাম লেখেনি সাংঘাতিক অভিযোগ থাকলেও।
সংখ্যালঘু মানুষ যখন তৃণমূল ছাড়ছেন, তখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি হেনস্তা বা এসআইআর-এ বিপুল সংখ্যালঘু ভোটারকে বাদ দিয়ে, ভয়-আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বিজেপি। এর পুরো লাভ ঘরে তুলছে তৃণমূল। তৃণমূল না থাকলে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি বাঁচবে না, দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা থাকবে না, বিজেপি-ও থাকবে না। বিজেপি না থাকলে তৃণমূলও মুসলমান ভোট, সেকুলার ভোটের যতটা পাচ্ছে, তা পাবে না। দু’জন দু’জনের প্রাণ ভোমরা।
দুই ফুলের মরাকান্না
দুই ফুল সরকার গড়ার কথা বললেও, বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি’র মতো তৃণমূলও কান্নাকাটি করছে। কারণ বামপন্থীরা নাকি তাদের যাত্রা ভঙ্গ করছে। বিজেপি বলছে বামেরা ভোট পাচ্ছে বলে তারা জিততে পারছে না, এখন মুখ্যমন্ত্রীও একই কথা বলছেন, যারা জিততে পারবে না তাদের ভোট দেবেন না। বিজেপি বলছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে তাদের ভোট দিতে হবে, অন্যদিকে তৃণমূল বলছে ডান, বাম সবাইকে বিজেপি’র বিরুদ্ধে এককাট্টা হতে হবে। দু’জনেই বাচ্চাদের মতো বলছে, বাকি যেন কেউ লড়াই না করে, শুধু ওদের দু’জনের খেলা হবে। দু’জনের হাতে দুটো সরকার, বিপুল অর্থ, সব মিডিয়া কিন্তু নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। দু’জনেই বামেদের শক্তি বৃদ্ধিকে ভয় পাচ্ছে। দুই ফুলের প্রচারে বোঝা যাচ্ছে ২০২৬ নির্বাচন ওদের নয়, হতে যাচ্ছে বামেদের।
তাহলে পরিবর্তন হবে কিভাবে?
দ্বিদলীয় রাজনীতির ফাঁদ ছিঁড়ে বেরোতে হবে। ধর্মকে রাজনীতির অস্ত্র হতে দেওয়া যাবে না। লড়াইকে ত্রিমুখী করতে হবে। মনে দ্বিধা না রেখে, খাদের কিনারায় থাকা রাজ্যকে বাঁচাতে, পরীক্ষিত বন্ধু বামপন্থীদের জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠাতে হবে। বিজেপি’র পক্ষে যা বিজেপি’র জন্যই অসম্ভব, তা সম্ভব হবে বামপন্থীদের সমর্থন করলে।
মিডিয়ার লাগাতার প্রচারে কেউ কেউ ভাবেন বামেদের শক্তি নেই তাদের ভোট দিলে নষ্ট হবে ভোট। শক্তি কার আছে, কার নেই তা বিচার হবে কি করে! চাঁদের মায়াবী জ্যোৎস্নার আলো তার নিজের নয়, সূর্যের। রাজনৈতিক দলের নিজের শক্তি মানে তার কর্মী ও সমর্থক। সেই বিচারে ভেবে দেখুন ১৫ বছর সরকারে না থেকেও, খুন-সন্ত্রাস, অত্যাচার, মিথ্যা মামলা মোকাবিলা করেও বামপন্থীরা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ ঘটাতে পারে। বিজেপি সরকারে থেকেও, মিডিয়ার সাহায্য নিয়েও, বিপুল অর্থ ব্যয় করেও চেয়ার দিয়ে ব্রিগেডের একাংশও ভরতে পারে না। তৃণমূল ব্রিগেডে না গিয়ে ধর্মতলায় মিটিং করে। এস আই আর’র সময় রাজ্যের কোনও প্রান্তে ৫ জন মানুষকে হাজির করা যাবে না, যাদের বিজেপি সাহায্য করেছে ফর্ম পূরণ করতে। কোভিডের সময় বামপন্থীরা অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেছে, রুগীকে বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে, অন্য দুই দল নেয়নি। আসলে রাজনৈতিক দলের শক্তি হলো জনগণ। জ্যোতি বসু বলতেন, জনগণই ইতিহাস রচনা করে। সেই জনগণ ৩৪ বছর বামপন্থীদের পাশে থাকায় তারা পঞ্চায়েত থেকে সরকার চালিয়েছে, মানুষ বলেছেন বামপন্থীরা শক্তিশালী। ২০১১ সালে জনগণের একটা বড় অংশ তৃণমূলের দিকে যাওয়ায় সরকার তাদের, তারা শক্তিশালী। কিছু মানুষ বিজেপিতে যাওয়ায় তাদের কয়েকটি বিধায়ক, সাংসদ হয়েছে। আজ যদি আপনি মনে করেন চোর, দাঙ্গাবাজদের ভোট না দিয়ে বামপন্থীদের ভোট দেবেন, তাহলে ২০২৬ সালের মে মাসে সবাই বলবেন, শক্তি বামেদের।
Comments :0