রণদীপ মিত্র: বোলপুর
‘‘ওঁকে মমতা ব্যানার্জি এমনি পাঁচটা জেলার অবজারভার এমনি করে নাই। কাজের দৌলতেই করেছিল।’’
রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত জেলা বীরভূম ও তার রাজনীতির ভরকেন্দ্রে থাকা অনুব্রত মন্ডলের তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরে যোগ মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবেই উদার প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন।
অনুব্রত মণ্ডলের এমন মন্তব্যে দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে এ রাজ্যের ‘বিরোধী দল’ চলবে সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণেই। ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূলের নামে বিরোধী পরিসরে আখেরে বিজেপি সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণকেই জমাট করতে চাইছে।
‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূলের হোতারা বীরভূম জেলা সভাপতি হিসাবে সেই অনুব্রত মন্ডলকেই বেছেছেন।
ফের জেলা সভাপতির পদ পেয়ে সেই অনুব্রত মৌনব্রত ত্যাগ করে বলেছেন, ‘‘আগেও তৃণমূলের সভাপতি ছিলাম, এখনও সভাপতি আছি। ধন্যবাদ জানাই দলকে।’’ এ কথাও বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি দুর্বলতা আমার আছে। আমার কেন, ঋতব্রত, ববির, অরূপ, বালুরও আছে এবং শুভেন্দুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করত।’’
স্বাভাবিকভাবেই অনুব্রত মন্ডলের দিকে প্রশ্ন ছোঁড়া হয়, তৃণমূল আমলে হওয়া উন্নয়নের ধারা কী স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে? এই প্রশ্নে সমালোচনা তো দূর, বরং বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসাই ভেসে এসেছে অনুব্রতর গলা থেকে।
অনুব্রত বলেছেন, ‘‘বিজেপি যখন গদিতে বসেছে, বিজেপি উন্নয়ন করেছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার দিচ্ছে। যারা আয়ুষ্মান ভারত পাবে না তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী দেবে বলেছে। বিজেপি নিঃসন্দেহে ১০০ দিনের কাজ ভাল দিয়েছে জেলায়।’’ তাহলে বিজেপি কি ভালো কাজ করছে? অনুব্রত বলেছেন, ‘‘এখন নিশ্চয়ই কাজ করছে। কারোর চোখে কিছু খারাপ পড়েনি।’’ এখানেই থামেন নি তিনি, শুভেন্দু অধিকারীরও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেছেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী খুব লড়াকু ছেলে। কংগ্রেস যখন করত তখনও লড়াকু ছিল। তৃণমূলে থেকেও নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে ও রাজনীতিটা শিখেছে। কর্মঠ ছেলে। ওঁকে মমতা ব্যানার্জি এমনি পাঁচটা জেলার অবজারভার এমনি করে নাই। কাজের দৌলতেই করেছিল।’’
শুভেন্দুর প্রশংসা করলেও অনুব্রত একহাত নিয়েছেন আই-প্যাককে। বলেছেন, ‘‘ওটা জঘন্য প্যাক। ২০০৯, ২০১১, ২০১৬, ২০২১ সালে আই-প্যাককে না নিয়েই ভোট করেছি।’’
রবিবার নির্বাচনের ফলাফলের পর প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অনুব্রত মন্ডল। বীরভূমে অনুব্রতর বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা কাজল সেখের প্রসঙ্গ উত্থাপন করতেই অনুব্রত একহাত নেন কাজলকে। বলেন, ‘‘বীরভূম জেলায় আমি যখন জেলা প্রেসিডেন্ট ছিলাম তখনও সবাই আমার সঙ্গে ছিল। এখনও সবাই মিলে আমার সঙ্গে আছে। কে চুটকো ফাটকা তিন নম্বরের বাচ্চা সাইডে চলে গেল তাতে কি এসে গেল!’’
সিপিআই(এম) বীরভূম জেলা কমিটির সম্পাদক গৌতম ঘোষ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘‘অনুব্রত মণ্ডলের কথায় আরও পরিষ্কার হলো যে ঋতব্রতদের তৃণমূল আসলে বিজেপির তৃণমূল। বিজেপি আসলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’’
Comments :0