Asian Highway Blocked

অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

জেলা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিন দিনের শিলিগুড়ি সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভিআইপি কনভয়ের নিরাপত্তার কারণে শুক্রবার থেকে কার্যত অবরুদ্ধ ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের হাসিমারা গুরুদ্বারা থেকে বীরপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা। দু’দিন ধরে রাস্তার দু’পাশে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভিন রাজ্যের অসংখ্য পণ্যবাহী গাড়ি। শনিবার দাড়িয়ে থাকা গাড়িগুলি এক সঙ্গে ছাড়লেও পরিস্তিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
রাস্তা আটকে থাকায় সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং পড়ুয়ারাও। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ বাস ও ছোট গাড়ির যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়ছেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে কারণ দীর্ঘ পথজুড়ে রাস্তার দু’পাশে চা-বাগান  নেই পর্যাপ্ত খাবারের দোকান বা বিশ্রামের ব্যবস্থা।
ভিন রাজ্যের একাধিক ট্রাকচালক জানান, তাঁরা শুনেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের কারণে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। দু’দিন ধরে ঠিকমতো খাবার জোটেনি। চা-বিস্কুট খেয়েই কোনওরকমে সময় কাটাতে হচ্ছে। কেউ যাচ্ছেন বিহারের ভাগলপুর,  কেউ কলকাতার দিকে। অথচ তাঁদের গাড়ি কার্যত একই জায়গায় দাঁড়িয়ে।
ভিআইপি কনভয় চলাচলের সময় জরুরি পরিষেবার গাড়ি,  এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ার অভিযোগ উঠছে। বাজারের রাস্তা বন্ধ থাকায় কেনাকাটা করতেও সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত,  সেই প্রশ্নই এখন সামনে। প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল আগে থেকেই বিকল্প রুট, যান নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিষেবার জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা। অথচ বাস্তবে সেই প্রস্তুতির ঘাটতিই প্রকট। ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যদি অনাহার,  যানজট ও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়,  তবে সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক কথাগুলি বলছেন দুর্ভোগে পড়া মানুষ।

Comments :0

Login to leave a comment