আধুনিক কলকাতার খোঁজ খবর রাখতে হলে
প্রদোষকুমার বাগচী
কলকাতাকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। একসময়ে এই কলকাতা ছিল ভারতের রাজধানী। বিচিত্র মানুষের সমাগমে মুখরিত ছিল কলকাতা। পরে দিন বদলেছে। ঔপনিবেশিক শাসন গেছে। দেশভাগ হয়েছে। কলকাতা আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। সেই কলকাতার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের কৌতূহল,আগ্রহের শেষ নেই। তাই কলকাতাকে নিয়ে অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তার মধ্যে রেফারেন্স বা আকরগ্রন্থের সংখ্যা খুবই কম আছে। সম্প্রতি ড. মাধব চন্দ্র চ্যাটার্জি সংকলিত ও সম্পাদিত Kolkata Information Directory শীর্ষক একটি রেফারেন্স বই আমাদের হাতে এসেছে। এককথায় অনবদ্য।
বইটিতে রয়েছে কলকাতা ও সল্টলেক সম্পর্কিত তথ্য। তথ্যগুলিকে ৩১টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। তার পরে রয়েছে একটি বিষয় নির্ঘণ্ট ও পরিশিষ্ট। মূলত শিক্ষা, গ্রন্থাগার, ক্রীড়াজগৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, সংবাদ মাধ্যম, স্ট্যান্ডার্ডস ও পেটেন্টস, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় সহ আরও প্রয়োজনীয় নানাবিধ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এই গ্রন্থে।
ধরা যাক কোনও এক শিক্ষার্থী যদি জানতে চান ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব প্যাকেজিং’ সেন্টারটি কোথায় অবস্থিত এবং সেখানে কোনও প্যাকেজিং কোর্স করানো হয় কিনা অথবা এই সময়ে কতগুলি অক্সিজেন সার্ভিস সেন্টার চালু আছে কলকাতা শহরে বা সেগুলি কোথায় কোথায় অবস্থিত তাহলে সেকথা জানতে তিনি কোথায় যাবেন, কার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন কে বলে দেবেন তার সঠিক উত্তর? এমনও তো হতে পারে একজন ছাত্র বা ছাত্রী কলকাতা ও সল্টলেক থেকে কত ধরনের দৈনিক সংবাদপত্র ও সাময়িকী প্রকাশিত হয় জানতে চান তাহলে তাদের কীভাবে সহায়তা করা যাবে, কোন বই হাতে তুলে দিলে এক ঝলকে দেখে নিতে পারবেন সেই তথ্যাদি যা তিনি তৎক্ষণাৎ চাইছেন। এরকম সময়ে এই বইটি তাদের হাতে তুলে দিতে পারলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে এক লহমায়। আর এভাবেই প্রয়োজনে অত্যন্ত কাজের ও কাছের বস্তু হয়ে উঠতে পারে মাধব চন্দ্র চ্যাটার্জি সম্পাদিত আলোচ্য গ্রন্থটি।
সম্পাদক বিশিষ্ট মানুষ। গ্রন্থগার বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ। যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত অবস্থায় নানা ধরনের রেফারেন্স প্রশ্নের মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়েছে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করেছেন কলকাতা-কেন্দ্রিক একটি ডাইরেক্টরি বিশেষ করে যে প্রতিষ্ঠানগুলি বহুমুখীবিষয় নিয়ে কাজ করে তার একটি সুবিন্যস্ত তালিকা থাকলে প্রশ্নকর্তাদের হাতে তা তুলে দিতে পারতেন। এই ভাবনাই তাঁকে এই ধরনের একটি আকর গ্রন্থ বা রেফারেন্স বই সংকলনের কাজে প্রণোদিত করে। অবশেষে দীর্ঘ প্রয়াসের পর প্রকাশিত হয় একটি প্রামাণ্য ও সুবৃহৎ একটি রেফারেন্স গ্রন্থ যার নাম ‘কোলকাতা ইনফরমেশন ডাইরেকটরি’।
বইটি নানাভাবে বহু লোকের কাজে লাগবে। একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে কলকাতায় বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং দেওয়া হয়। সেই সব ট্রেনিং থাকলে চাকরির সুবিধা হয়। ইদানীং নার্সিং ট্রেনিং নেওয়ার ঝোঁক পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখন যদি কেউ নার্সিং ট্রেনিং কোথায় কোথায় করানো হয় জানতে চান তাহলে কোথায় গেলে সহজে উত্তর পাবেন তিনি? কেউ হয়তো কারও সহায়তায় তার উত্তর পেয়ে যেতে পারেন, কিন্তু অন্যদের সমস্যার সমাধান হবে কিভাবে? এই সময়ে এই ডাইরেক্টরিটিই পরম মিত্রের ভূমিকা নিতে পারে। এরকম নানা প্রয়োজনে সর্বস্তরের মানুষের কাছে কলকাতা ইনফরমেশন ডাইরেক্টরিটি কাজের বই বলে গণ্য হবে। আমার মনে হয় কলেজ ইউনিভার্সিটি ছাড়াও বিভিন্ন গ্রন্থাগারের রেফারেন্স সেকশনে এই বই থাকা দরকার।
বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর নির্ঘণ্ট অংশটি। এই নির্ঘণ্ট অংশে গিয়ে কেউ দেখে নিতে পারবেন তিনি যা চান তা এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে কিনা— সে আকুপাংচার হোক, কবরখানা হোক, কলকাতার কোনও ক্লাব হোক, জৈন মন্দির হোক বা আইটিআই অথবা বৃদ্ধাবাস সংক্রান্ত খবর হোক— নির্ঘণ্ট থেকে পৃষ্ঠা সংখ্যা দেখে নিয়ে সোজা বইটির মূল অংশে চলে গেলেই পাওয়া যাবে সেই ঈপ্সিত উত্তরটি যা হয়ত কাউকে খুব উদ্বিগ্ন করে রেখেছিল। কেউ হয়তো পেতে চান রিলিফ সংগঠনগুলির ঠিকানা, কেউ বা জানতে চান আর্ট ইস্কুলের খবর, কারও কাছে প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলির তথ্য —সব ক্ষেত্রেই ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারে এই ডাইরেক্টরিটি। সংকলকে ধন্যবাদ এই ধরনের একটি মূল্যবান বই উপহার দেওয়ার জন্য।
Kolkata Information Directory
Madhab handra Chatterjee. Gyanpith Publication, Kolkata _000007. Rs.1600/-
Comments :0