‘ব্রিগেডকে শুধু সমাবেশ ভাবলে হবে না, ব্রিগেড আন্দোলন ক্ষেত্র’, সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি নিয়ে এককাট্টা রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তই। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে এপ্রিলের ২০ তারিখ ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছেন শ্রমিক-কৃষক-খেতমজুর-বস্তিবাসীরা। মাঠ ভরাতে কি সমস্যা হতে পারে? প্রশ্নের কোনও অবকাশই রাখেননি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা। সোচ্চারে তাঁরা বলেছেন, ‘প্রতিটি গ্রামের ব্লকে-ব্লকে যাচ্ছি আমরা। বাড়ি-বাড়ি ঘুরে প্রচার চলছে। গরিব খেটে খাওয়া মানুষ প্রবল যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা অসহায়। আমাদেরই বোঝাতে হবে। গ্রাম থেকে শহর ব্রিগেড নিয়ে আলোড়ন তৈরি করতে হবে।’
সিপিআই(এম) ২৭তম রাজ্য সম্মেলনের শেষ দিনে মঙ্গলবার ব্রিগেড সফল করতে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও বিদায়ী রাজ্য সম্পাদকের পেশ করা খসড়া সাংগঠনিক-রাজনৈতিক প্রতিবেদনের উপর আলোচনায় গত তিন দিন ধরে বারবার প্রতিনিধিরা ব্রিগেড-প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন। কীভাবে শহর থেকে গ্রাম, এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চলছে, সে বিষয় তুলে ধরেছেন তাঁরা। শ্রমজীবী মানুষ-কৃষক-খেতমজুরদের নিদারুণ অবস্থার কথা ঘুরে ফিরে এসেছে আলোচনায়। কাজের আকাল, পরিযায়ী শ্রমিক বেড়ে যাওয়া, ফসলের দাম না পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। কৃষক ফ্রন্টের প্রতিনিধি ব্রিগেড প্রস্তুতির প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ব্লকে ব্লকে আমরা কনভেনশন করছি।’ বস্তিবাসীদের নিয়ে সেই ফ্রন্টের প্রতিনিধির বক্তব্যে উঠে এসেছে, কেউ থাকেন বস্তিতে, কেউ ঝুপড়িতে। এঁরা প্রত্যেকেই অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক। শহরের নিপীড়িত অবহেলিত অংশের মানুষ তাঁরা। কমিউনিস্ট দায়বদ্ধতা থেকেই এই মানুষগুলিকে সংগঠিত করা প্রয়োজন। তাতে শহরের ভারসাম্য বজায় থাকবে।’ আপামর সাধারণ মানুষ যে সমস্ত সমস্যায় জর্জরিত বস্তিবাসীরাও সে সমস্যার বাইরে নন, ফলে তাঁরা কেন ব্রিগেড সমাবেশের অংশ হয়ে উঠবেন, তা নিরন্তর বোঝানো হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা। লিফলেট বিলি, পথ সভা সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমজনতার কাছে ‘কেন ব্রিগেড সমাবেশ’ সেই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। শুধু রাজ্যব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায় নয়, সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠবে ব্রিগেড সমাবেশে। তৃণমূল-বিজেপি’র জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শহরের ওয়ার্ড থেকে গ্রামস্তর পর্যন্ত লাগাতার প্রচার-আন্দোলন চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা।
এদিন এই বিষয়ে প্রস্তাব পেশ করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র বলেন, ‘কোনও প্রতিযোগিতা নয়, আমরা গ্রামকে জাগাতে পারলাম কিনা, মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে পারছি কি না সেটা বুঝতে হবে। ব্রিগেড কোনও মেগা ইভেন্ট বা কোনও আন্দোলনের সমাপ্তি নয়, বরং আগামীর শপথ। প্রতিটি ফ্রন্টই আলাদা-আলাদা ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করব আমরা। যে চারটি সংগঠন ব্রিগেডর ডাক দিয়েছে, শুধু তারাই প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা নয়। ছাত্র-যুব-মহিলাদের মধ্যে কি শ্রমজীবীরা নেই? চারটি সংগঠনের নাম আছে মানে শুধু তাঁরাই শ্রমজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন? তা নয়। রাজ্যের সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে সংঘবদ্ধ করতে হবে।’ এই প্রস্তাব সমর্থন করে পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম বলেছেন, শ্রেণি সংগঠনগুলির সঙ্গে পার্টির সার্বিক উদ্যোগে ব্রিগেড সমাবেশ সফল হবে। যে জ্বলন্ত সমস্যায় মানুষ দিন যাপন করছেন সেগুলিকে সামনের সারিতে রেখে শ্রেণি সংগঠনগুলিকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। গ্রামের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে বিকল্প তুলে ধরা প্রয়োজন।’ ব্রিগেড সমাবেশ সফল করতে যে প্রস্তাব সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, বড় বড় কর্পোরেট সংস্থার স্বার্থে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের উদার অর্থনীতি, আর্থিক সংস্কার কর্মসূচি শ্রমিক-কৃষক-খেতমজুর সহ দেশের সাধারণ মেহনতি মানুষের উপর এক ভয়ঙ্কর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। একই পথে চলছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। রাজ্যে ১৪ বছর ধরে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি রাজ্যের শাসক দল এবং সরকারের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের অর্থনীতি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র-রাজ্যের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ব্রিগেড সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে। সম্মেলন শেষের পর প্রকাশ্য সমাবেশেও নেতৃবৃন্দ ব্রিগেড সমাবেশের সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Brigade 20 April
পঞ্চায়েত থেকে ওয়ার্ড, ব্রিগেডের প্রস্তুতি জোরকদমে

×
Comments :0