শিলিগুড়িতে ফুলেশ্বরী রেলগেট বন্ধের পর মহাবীরস্থান ও হকার্স কর্নারে পরপর দুটি রেলগেট বন্ধের চেষ্টাকে প্রতিহত করতে শিলিগুড়ি শহরের সর্বস্তরের মানুষকে গণ আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালো সিপিআই(এম)।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনে সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠকে সিপিআই(এম) নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, শিলিগুড়িতে একাধিক রেলগেট বন্ধের আশঙ্কায় ভুগছেন শহরের বাসিন্দারা। বিকল্প ব্যবস্থা না করে রেলগেটগুলি বন্ধ করে দেওয়া হলে শহরের ব্যবসা বাণিজ্য বিরাট ক্ষতির মুখে পড়বে। ব্যবসায়ীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন পার্টি নেতা দিলীপ সিং-ও।
নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রেলের উন্নয়নের কাজের জন্য কোনরকম বিকল্প ব্যবস্থা না করে একের পর এক রেলগেট বন্ধ করে শহরকে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। শিলিগুড়ি শহরের পুরোনো জায়গায় টাউন স্টেশন। লাগোয়া মহাবীরস্থানে হোলসেল মার্কেট রয়েছে। ব্যবসায়িক বা অন্যান্য সূত্রে অসংখ্য মানুষ মহাবীরস্থান ও হকার্স কর্নার এলাকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ফ্লাইওভার হওয়ার পরেও স্থানীয় মানুষের দাবিতে মহাবীরস্থান ও সংলগ্ন হকার্স কর্নার, দু’টি রেলগেটই রেল খোলা রাখতে বাধ্য হয়েছে। প্রচুর মানুষ এই রেলগেট দুটি ব্যবহার করে। রেলগেট বন্ধ হয়ে গেলে বহু ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদের মুখে পড়বেন। শুধু তাই নয়, রেলগেট বন্ধেরও কিছু নিয়ম রয়েছে। নোটিশ, পাবলিক হিয়ারিং করে মানুষের সুবিধা অসুবিধা বুঝতে হবে। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের মতামত নেওয়া হয়েছে কিনা তাও জানা নেই। কারন কর্পোরেশনের নির্বাচিত বোর্ড নেই। পর পর এভাবে একাধিক রেলগেট বন্ধের কারণে শহরের উন্নয়ন অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে। এমনিতেই যানজটে অবরুদ্ধ শহর। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিজেপি বাদে সবস্তরের দায়িত্বশীল নাগরিক, সব রাজনৈতিক দল সহ আপামর শিলিগুড়িবাসীদের এগিয়ে এসে গণ আন্দোলন ও প্রতিরোধ আন্দোলনে শামিল হবার আহ্বান জানান তিনি।
নুরুল ইসলাম আরও বলেন, শিলিগুড়ি গোটা উত্তর পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক দিক থেকেও গুরুত্ব রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছিলো শহর শিলিগুড়ি। বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে শহরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। বর্তমানে শহর ক্রমবর্ধমান। যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। বামফ্রন্টের সময় শহরের যে উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছিলো তৃণমূলের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে সেই উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বর্তমান রাজ্য ও কেন্দ্রের ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকার আসার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনও কাজ তো হয়ইনি বরং রাস্তাঘাট সহ সকল পৌর পরিষেবা একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছে। একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আচমকাই রাতের অন্ধকারে ভারতনগরের ফুলেশ্বরী রেলগেট বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। এনজেপি থেকে যাত্রীরা এই রাস্তাই বেশি ব্যবহার করেন। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি চলাচল, স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ওই এলাকাতেই শিলিগুড়ির বিধায়কের বাড়ি। কিন্তু এক্ষেত্রে তার কোনই প্রতিবাদ নেই। এখন মহাবীরস্থান ও হকার্স কর্নার রেলগেট দু’টি বন্ধের চেষ্টা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ আন্দোলনে শামিল হবার সময় এসেছে।
Railgate Siliguri
ফের দুই রেলগেট বন্ধে নামছে রেল, শিলিগুড়িতে সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক সিপিআই(এম)’র
×
Comments :0