শারদোৎসবের আবহে ইসলামপুর শহরে মার্কসীয় ও প্রগতিশীল বই বিক্রয় কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামল সিপিআই(এম)। মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উপর আঘাতের অভিযোগ তুলে সোমবার উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির ডাকে ইসলামপুর বাস টার্মিনাস থেকে থানা পর্যন্ত প্রতিবাদী মিছিল হয়। থানার সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দিলে সেখানেই বিক্ষোভ হয়। হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম পাল, বিকাশ দাস, বিদ্যুৎ তরফদার, গৌতম বর্মন, আনন্দমোহন সিংহ, আলপনা বর্মন, রঘুপতি মুখার্জি ও আব্দুল করিম প্রমুখ। বিক্ষোভ সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুল করিম। বক্তব্য রাখেন গৌতম বর্মন, রঘুপতি মুখার্জি, উত্তম পাল-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বই মানুষের জ্ঞান, যুক্তিবোধ ও চেতনার বিকাশ ঘটায়। সেই বই বিক্রির কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বইয়ের স্টলে আক্রমণ কেবল একটি বিক্রয় কেন্দ্রের ক্ষতিসাধন নয়, এর মধ্য দিয়ে মুক্তচিন্তা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হওয়া জরুরি। রঘুপতি মুখার্জি বলেন, শারদোৎসবের সময় মার্কসীয় ও প্রগতিশীল বই বিক্রয় কেন্দ্রে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। মতের অমিল থাকলেও বই, সংস্কৃতি ও স্বাধীন চিন্তার পরিসরকে আক্রমণ করার অধিকার কারও নেই। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
উত্তম পাল বলেন, বই মানুষের জ্ঞানের ভান্ডার। বই পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষের চেতনা ও বিচারবোধের বিকাশ ঘটে। তাই বইয়ের স্টলে হামলার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। এদিনের মিছিল ও বিক্ষোভ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ইসলামপুরে স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ রক্ষার দাবি তোলা হয়। নেতৃত্ব পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করলে খুব শীঘ্রই বড় ধরনের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হবে।
Comments :0