Chopra BJP Leader

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সহবাস, প্রাণ নাশের হুমকি অভিযুক্ত চোপড়ার বিজেপি নেতা

রাজ্য জেলা

চিহ্নিত অভিযুক্ত বিজেপি নেতা

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ বছর ধরে সহবাস, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ চোপড়ার বিজেপি নেতা শংকর অধিকারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রর বিজেপি প্রার্থী ছিল। তিনি রাজ্যের ও কেন্দ্রের নেতাদের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে। আদিবাসি তরুণীর তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ জমা দিয়েছে চোপড়া থানায়। অভিযোগ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, পরে বিয়ে করতে অস্বীকার, ধর্ষণের চেষ্টা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্ত তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। ওই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই একাধিকবার তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে কথা তুললে অভিযুক্ত নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার দাবি জানাতে গেলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে মারধর করা হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা ওই তরুণী চোপড়া থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গত রবিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। গত ৫ জুলাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নেয়নি পুলিশ। 
ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন,‘‘ আদিবাসী মহিলা চোপড়া থানায় অভিযোগ করেন বিজেপি প্রার্থী গত কয়েক বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন, সহবাস করেছেন। এখন থানায় অভিযোগ করার দু’দিন পরও মামলা দায়ের করা হয়নি। এই চোপড়ায় তৃণমূলের রাজত্ব ছিল। সেই তৃণমূলের নেতারা বিজেপি’র সঙ্গে বন্দোবস্ত করছে।’’ সেলিম বলেন, ‘‘এই ধারা কি অব্যাহত থাকবে? বিজেপি সরকার কি টিএমসি-টু হবে?’’
পুলিশের নিষ্কৃয়তার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্র বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত বিজেপি নেতার সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। 
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযুক্তের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার ভাইরাল হতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মহলের একাংশের মতে, যেহেতু অভিযুক্ত বিজেপির প্রভাবশালী নেতা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ, তাই বিষয়টি চাপা পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। 
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শঙ্কর অধিকারীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Comments :0

Login to leave a comment