Dhupguri

উড়ালপুল ও আন্ডারপাসের দাবিতে সরব ধূপগুড়ির বাসিন্দারা

জেলা

ধূপগুড়ি শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া রেললাইন দীর্ঘ সময় ধরে হাজার হাজার মানুষের নিত্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং সংলগ্ন বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও রেল সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও শাসকদলের নির্বিকার ভূমিকায় ফুঁসছেন এলাকাবাসী। শহরের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম বড় অন্তরায় বটতলা লেভেল ক্রসিং এবং প্রমোদনগর এলাকা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বটতলায় একটি উড়ালপুল এবং প্রমোদনগরে রেলওয়ে আন্ডারপাসের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষ। এই লাইন দিয়ে প্রতিদিন ৫০টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করায়, বটতলা লেভেল ক্রসিংয়ে প্রায় প্রতি আধ ঘণ্টায় গেট বন্ধ থাকে।
বারোঘরিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় তিনটি হাইস্কুল, ১৮টি প্রাইমারি স্কুল ও কৃষিপ্রধান জনপদ রয়েছে। স্কুল বা অফিসের সময় গেট বন্ধ থাকলে ছাত্রছাত্রী, রোগী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। প্রমোদনগরের বাসিন্দা কৃষ্ণ বসাক জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে প্রাণ হাতে নিতে হয় অথবা কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।
সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি দক্ষিণ পূর্ব এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজ কুমার রায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘স্থানীয় সাংসদ ও তৎকালীন রাজ্য সরকার একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছিল, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার কেবল মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে রেখেছে। রাজ্যে পালা বদল হয়েছে, বর্তমান বিধায়ক এই এলাকারই বাসিন্দা, অথচ তাঁর চোখের সামনে মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের বুলি আড়ালেও বাস্তবে উন্নয়নের কাজ থমকে আছে।’’
সিপিআই(এম)’র স্পষ্ট বক্তব্য, রেললাইন পারাপারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা ধূপগুড়িবাসীর সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। দ্রুত উড়ালপুল ও আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই লড়াইকে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বামফ্রন্ট নেতারা।
স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পা সরকার ও স্কুল শিক্ষক সঞ্জয় ঘোষের মতে, উড়ালপুল নির্মাণই এই সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান। ফোর লেনের রাস্তাটিও বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ওপর দিয়ে তৈরী হচ্ছে। শহরের সাথে ফোর লেনের মূল সংযোগকারী রাস্তা এটি অথচ সংযোগ স্থলের এই চরম দুরাবস্থায় প্রশাসনের মৌনতা ধূপগুড়িবাসীকে চূড়ান্ত হতাশ করছে। এখন দেখার বিষয় জনদাবির চাপে পড়ে সরকার কবে এই জনদরদি প্রকল্পের বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়।

Comments :0

Login to leave a comment