ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৃহস্পতিবার টেলিফোনে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ওমানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও এদিন কথা বলেন এস জয়শঙ্কর।
জয়শঙ্কর এক্স-এ একটি পোস্ট করে বলেন, "আজ বিকেলে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়।"
পাশাপাশি আরও একটি পোস্ট করে ওমানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
এদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে ভারত। উল্লেখ্য, খামেনিকে হত্যার নিন্দা না করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রী এদিন দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়ে শোক পুস্তিকায় স্বাক্ষর করেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রক ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালির সঙ্গে বিদেশ সচিবের কথোপকথনের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে চলতি সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন জয়শঙ্কর। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁদের মধ্যে কথা হয়, সেদিনও বিদেশমন্ত্রকের তরফে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের তৎকালীন অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত।
ইরান-মার্কিন সংঘাত মেটানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চালানোর আহ্বান জানায় ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী প্রায় ১ কোটি ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিল। কারণ এই সরবরাহ বন্ধ হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়ার সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ। ফলত বেড়েছে তেলের দাম। পাশাপাশি, ‘কাতার এনার্জি‘ প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করায়, প্রাকৃতিক গ্যাসেরও দাম বেড়ে যায়। এই ঘটনাবলী ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে যে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা‘ থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পরই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছিল। যদিও মার্কিন টর্পেডোর গুলিতে বেশিরভাগ নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনী।
গত বুধবার টর্পেডো হানায় ইরানের এই যুদ্ধ জাহাজ ডুবে গিয়েছে ভারতীয় তটরেখার কাছে। বিশাখাপত্তনমে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়ে ফিরছিল ওই জাহাজ। সে সময়ে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ার বিষয়ে জানালেও ভারত চুপ ছিল।
ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েল আগ্রাসন এবং গাজায় গণহত্যার পর্বে ভারতের বিদেশনীতি সমালোচনার মুখে পড়েছে। আমেরিকার অনুগামী হয়ে চলায় দেশের স্বার্থ বিপন্ন হয়েছে। আমেরিকা-ইজরায়েলের একতরফা হামলার জেরে সংঘাত পরিস্থিতিতে জ্বালানি থেকে সারের জোগান অনিশ্চিত। বিপন্ন মধ্য প্রাচ্যে কর্মরত ভারতীয়েরা।
IRAN US conflict
ইরানের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা জয়শঙ্করের, শোক পুস্তিকায় সই বিদেশসচিবের
×
Comments :0