মীর আফরোজ জামান: কুষ্টিয়া
বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় বাউলসম্রাট লালন ফকির সমাধিস্থলে
শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। সাধুর হাট ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা, যা অনুগামীদের কাছে ‘পাগলের মেলা’ নামে পরিচিত। লালন শাহের ১৩৬তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসব চলবে সোমবার পর্যন্ত। লালন একাডেমির উদ্যোগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রকের ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়েছে।
লালনের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মরমি সংগীতের টানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ সমবেত হয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালি, ফ্রান্স, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন লালন অনুসারীরা।
আলোচনা সভা ও লালনসংগীতের আসরে মুখর হয়ে উঠেছে। মেলায় বসেছে নানা পণ্যের পসরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রকের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা শাসক এবং লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন-হাসান।
নিতাই রায় চৌধুরী কুষ্টিয়ায় ‘লালন নগরী’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, লালনের স্মৃতি ও দর্শনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।
তিনি গড়াই-মধুমতী নদীতে নৌকাবাইচসহ দেশীয় খেলাধুলা, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনকে উৎসাহিত করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রকের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
বাউলগান, একতারার সুর এবং সাধক-অনুরাগীদের মিলনে মুখর হয়ে ওঠে লালন একাডেমি চত্বর। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’—দেহ, মন ও আত্মার রহস্য অনুসন্ধানের এমন মরমি গানে মুখর হয়ে উঠেছে লালনের আখড়া।
Comments :0