Suvendu Adhikari

চোরবাগানে মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর প্রশাসনের তৎপরতা লোক দেখানো, দায় কার?

রাজ্য

উৎসবের আবহে চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রাণহানির পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। রবিবার ভবানী ভবনে পুলিশ কর্তাদের নিয়ে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, ডিজিপি, স্বরাষ্ট্র সচিব সহ সমস্ত আইপিএস পদমর্যাদার অফিসাররা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা সহ জেলার বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যাতায়াতের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জনবহুল ও বড় পুজোগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার থেকে চরম কড়াকড়ি করা হবে এবং প্রয়োজনে তুলে দেওয়া হবে সমস্ত ভিআইপি গেট। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, এই ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী হিসাবে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন শুভেন্দু।


দুর্গাপুজোর মধ্যেই কলকাতায় জারি করা হয়েছে বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা। পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রবিবার ১৮ অক্টোবর থেকে মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে।

প্রশাসনের এই তৎপরতা যে কতটা দেরিতে এবং কতটা দায়সারা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষ যখন পুজোর ভিড়ে নিরাপত্তাহীন, তখন পুলিশ ব্যস্ত ভিআইপিদের পাহারা দিতে, বইয়ের স্টলে বুলডোজার চালাতে - এই মিসপ্লেসড প্রায়োরিটির ফলই হল চোরবাগানের মৃত্যু মিছিল।


বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আহতদের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। মৃতদের দেহ সসম্মানে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকার চেক দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। বিহারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তিনি নিজে শোকগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ভিড় বেশি হতে পারে এমন প্রতিটি জায়গায় বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে এবং কোনও ভিআইপি লাইন বা বিশেষ সুবিধা রাখা যাবে না।

এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই কমিটি থেকে কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভাকে দূরে রাখা হয়েছে, কারণ এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই প্রাথমিকভাবে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন একজন বিচারপতি। কমিটিতে থাকছেন স্বরাষ্ট্র বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিক, ডিজিপির প্রতিনিধি এবং এনডিআরএফ-এর প্রতিনিধি। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে।

ইতিমধ্যেই পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সভাপতি সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় - শুধু পুজো কমিটির কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই কি দায় শেষ? ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, তার ব্যর্থতার দায় কে নেবে? টাকার চেক দিয়ে কি প্রাণের ক্ষতিপূরণ হয়?

Comments :0

Login to leave a comment