Online Fraud

অনলাইন প্রতারণায় খোয়ানো টাকা ব্যবসায়ীকে ফেরাল মেমারি থানা

জেলা

আপনিও কি ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে ইলেকট্রিক বিল পেমেন্ট করেন? তাহলে আজ থেকেই সচেতন হোন এবং সাবধান হয়ে যান! নচেৎ মেমারির এক ক্রেতার মতো আপনিও বড়সড় প্রতারণা বা সাইবার জালিয়াতির শিকার হতে পারেন। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানা এলাকায় ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মেমারির এক ব্যবসায়ী মহম্মদ আলী হোসেন সেখ সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে খুইয়েছিলেন নিজের কষ্টার্জিত ৩৭ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, গত ১৭ জুলাই, ২০২৫ তারিখে তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক ‘সুদীপ্ত ব্যানার্জী’ বলে পরিচয় দেয়। সে দাবি করে, মোবাইলের মাধ্যমে দেওয়া ইলেকট্রিক বিলের টাকা নাকি সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি! টাকা অবিলম্বে জমা না করলে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত তিনি অনলাইনেই ইলেকট্রিক বিল পেমেন্ট করেছিলেন। ভয়ে ব্যবসায়ী  ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আসা অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে চান এর উপায় কী? তখন প্রতারক ব্যক্তিটি -বিদ্যুৎ বিল জমা করার নাম করে -একটি অ্যাপের লিংক পাঠায় এবং সেখানে ক্লিক করতে বলে। সরল বিশ্বাসে সেই লিংকে ক্লিক করতেই মুহূর্তের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় পুরো ৩৭ হাজার টাকা! সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর।
টাকা খোয়ানোর পরই দমে না গিয়ে তিনি দ্রুত মেমারি থানার দ্বারস্থ হন। মেমারি থানার সাইবার জালিয়াতি রিকভারি অফিসারের তৎপরতায় এবং পুলিশের যৌথ সহযোগিতায় দীর্ঘ প্রায় এক বছরের লড়াইয়ের পর অবশেষে নিজের পুরো ৩৭ হাজার টাকাই ফেরত পেয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। শুক্রবার রাত্রে নটার সময় ওই ব্যবসায়ী টাকা ফেরত পেয়ে পুলিশের এই মানবিক ও আন্তরিক ভূমিকাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে অন্যান্য ভুক্তভোগীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, ‘‘টাকা খোয়া গেলে আশা হারাবেন না। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন ও ধৈর্য ধরুন। বিদ্যুৎ অফিস বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তরের নাম করে কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন, মেসেজ, লিংক কিংবা অ্যাপ পাঠালে ভুলেও তাতে ক্লিক করবেন না। ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখুন: ফোনে ওটিপি , ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস বা কোনো পিন কারো সাথে শেয়ার করবেন না। কোনো রকম সন্দেহ হলে বা বিল সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে অনলাইনে কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপে না গিয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ দপ্তরের নিকটবর্তী অফিসে যোগাযোগ করাই শ্রেয়। স্থানীয় থানা বা জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ যোগাযোগ করুন। আপনার একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই ধরনের বড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে। নিজে সাবধান থাকুন, অপরকেও সচেতন করুন।’’

Comments :0

Login to leave a comment