Haldibari Railway Station

মিতালী এক্সপ্রেস বন্ধ, ব্যস্ততাহীন হলদিবাড়ি রেল স্টেশন

জেলা

জয়ন্ত সাহা: হলদিবাড়ি

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের হলদিবাড়ি রেল স্টেশন এখন কোন কাজেই লাগছে না! সারাদিনে দু একটা ‘ডেমু’ ট্রেন যাতায়াত আর একটি এক্সপ্রেস ট্রেন যাতায়াত ছাড়া! এই স্টেশন ঘিরে বালাদেশের সাথে যাত্রী ট্রেন চলাচল আর স্থল বানিজ্যের সম্ভবনা প্রায় নেই বললেই চলে!
বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন অস্থিরতার জেরে হলদিবাড়ির চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে প্রায় দু বছর আগে ভারত-বাংলাদেশ স্থল বন্দর দিয়ে বন্ধ হওয়ায় মিতালী এক্সপ্রেসের ভবিষৎ আজও অন্ধকারে। বাংলাদেশের পরিবহণ মন্ত্রক চিলাহাটি স্থল বন্দর বন্ধ করে দিয়েছে।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ভগ্নহৃদয়ে বন্ধুত্বের ট্রেন শেষবারের মত হলদিবাড়ি স্টেশনের অনতিদূরে খালপাড়া সীমান্ত ফটক পার হয়ে চলে যাবার সময়েই মিতালী এক্সপ্রেসের ফের চালু হবার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তারপর কেটে গেছে প্রায় এক বছর দশ মাস। এই রেল পথ দিয়ে শুধু মিতালী এক্সপ্রেসের যাতায়াতই বন্ধ হয় নি তার সাথে ভারত- বাংলাদেশের রেল পথে বিপুল বানিজ্য সম্ভবনার কফিনেও যেন পেরেক পোঁতা হয়ে গেছে। তবুও আশা নিরাশায় দোলায় দুলছিল দুই দেশের মানুষ। কিন্তু গত আগষ্ট মাসে বাংলাদেশের নৌপরিবহণ মন্ত্রকের চিলাহাটি স্থলবানিজ্য বন্ধ করে দেবার ঘোষণা হবার পর দুই দেশের মধ্যে রেল চলচাল নিয়ে আর কোন ইতিবাচক আলোচনা হয় নি। কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ির খালপাড়ার ওপারে থাকা বাংলাদেশের নীলফামারির ডোমার উপজেলার ওই বন্দর এখন পুরোপুরিই বন্ধ। চিলাহাটি দিয়ে যাত্রীবাহী রেল ব্যবস্থা বন্ধ হবার খবরে নর্থবেঙ্গল এক্সপার্টস এসোশিয়েশনের সদস্যরা জানালেন ওই বন্দর বন্ধে এখনই কোন প্রভাব পড়ছে না। তবে আমাদের যাবতীয় ভবিষৎ পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে এটা সত্যি। তাদের বক্তব্য একটি বন্দরকে কার্যকর করতে কাঠখড় পোড়াতে হয়। দিল্লী-ঢাকার মধ্যে বছরের পর বছর বৈঠকের পর মিতালী এক্সপ্রেস চালু হয়েছিল। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন গোলমালের জেরে সেটাও বন্ধ হয়ে গেল।
হতাশ হলদিবাড়ির পাসপোর্ট হোল্ডার সমিতির সদস্যরাও। সমিতির সদস্য লুৎফর রহমানের বক্তব্য, মিতালী এক্সপ্রেস চালু হবার পর আমরা আশায় বুক বেঁধে ছিলাম। দুই দেশের মধ্যে বানিজ্য চালু হলে হলদিবাড়ির আর্থ সামাজিক চিত্র বদলে যেত। ইংরেজ আমলে এই রেলপথেই ভারত, ভুটানের জোরদার ব্যবসা চলতো। বাংলাদেশের অভ্যন্তরের আমদানি রপ্তানীকারিরা বলছেন, শুধু চিলাহাটি নয়, চুয়াডাঙার দৌলতগঞ্জ, এবং রাঙামাটির তেগামুখ স্থল বন্দর থেকেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। উল্লেখ্য ভারতের সাথে বাংলাদেশের চার স্থল বন্দর দিয়েই বানিজ্য ও রেল যাতায়াত ছিল। মহম্মদ ইউনুসের উপদেষ্টামন্ডলীর আমলেই রেল বানিজ্য বন্ধ হয়েছিল। তারপর পদ্মানদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের নতুন সরকার দুই দেশের মধ্যে রেল যাতায়াত চালুর উদ্যোগ নেয় নি। বন্ধ পড়ে আছে রেল পথে বানিজ্য।
মিতালী এক্সপ্রেস চালু হলে ফের বাংলাদেশের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ট্রেন ছুটে আসবে হলদিবাড়িতে। সেখান থেকে এনজেপি। অপেক্ষায় বসে আছে হলদিবাড়ির আন্তর্জাতিক মানের রেলস্টেশন। এখন ব্যস্ততা নেই এই স্টেশনের। সারাদিনে একটা দুটো লোকাল ট্রেন ছুটে যায়। আর একটা মাত্র কলকাতাগামী এক্সপ্রেস ট্রেন এলে ব্যস্ততা বাড়ে। তারপর চুপচাপ অলস দিন কাটায় হলদিবাড়ি রেল স্টেশন।

Comments :0

Login to leave a comment