Bankura Muslim Women Annapurna Yojna

মুসলিমদের পরে হবে, অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়া মহিলাদের বলছেন বিধায়ক!

জেলা

যন্ত্রণা জানাচ্ছেন বাঁকুড়া কেঠারডাঙ্গার বাসিন্দা মহিলারা।

মধুসূদন চ্যাটার্জি: বাঁকুড়া

গিয়েছিলেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা চাইতে। বিধায়কের দপ্তরেই গিয়েছিলেন তাঁরা। মুসলিম ধর্মাবলম্বী এই মহিলাদের বিধায়ক বলেছেন যে ‘আগে আমাদের‘ মহিলারা টাকা পাক। তারপর মুসলিম মহিলারা টাকা পাবে‘। 
শুক্রবার আবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা। সব ধর্ম বা অংশের মহিলারাই শামিল হচ্ছেন বিক্ষোভে। তার মধ্যেই ধর্মীয় বিভাজন তৈরির এই অভিযোগ উঠেছে বাঁকুড়া শহরে।
এই মহিলাদের অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে বাঁকুড়া শহরের ভৈরবস্থান মোড়ে বাঁকুড়া বিধানসভার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার অফিসে যান তাঁরা। তাঁরা বলেছেন, ‘‘এমএলএ আমাদের এতটাই অপমান করেছেন যে দুপুরের খাবার পর্যন্ত খাইনি।’’ চোখে মুখে যন্ত্রনাকর নিয়ে একথা জানান সাবেনা মন্ডল, রেশমা বিবিরা। (দেখুন ভিডিও)


এই ঘটনায় বাঁকুড়া শহরের মুসলিম প্রধান ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেঠারডাঙ্গা এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। মহিলারা জানান, তাঁরা দল বেঁধে সামনের মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জানাবেন। 
ঘটনা হলো, অন্নপূর্ণা যোজনায় সারা রাজ্যের মধ্যে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মহিলারা তাঁদের প্রাপ্য ভাতা পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আবার এক মাস পেলেও পরের দু’মাস পাননি। এই নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মা-বোনেরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। বাঁকুড়া শহরের অন্যতম বড় এলাকা কেঠারডাঙ্গা মুসলিম পাড়ায় বাসিন্দাদের ৯৫ শতাংশই খেটে খাওয়া। মূলত বাঁকুড়া রেল গুডস শেডে ও শহরের বিভিন্ন বাজারে মুটিয়া শ্রমিকের কাজ করেন। প্রতিদিন তাঁদের কাজও মেলে না। অত্যন্ত দারিদ্রের মধ্যে তাঁদের দিন কাটে। এই এলাকার একটা বড় অংশের মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি একবারও।
এই অঞ্চলের মহিলারা বলেছেন, ‘‘আমরা অনলাইন, অফলাইন সব জায়গা থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু টাকা পাইনি। চারদিন আগে আমরা বাঁকুড়া মহকুমা শাসকের কাছে গিয়েছিলাম অন্নপূর্ণায় টাকা না পাওয়ার বিষয়টি জানাতে। ওই অফিস থেকে বলা হয় ২অক্টোবর বাঁকুড়া পৌরসভার গোধূলি লজে ‘সেবা সেতু অভিযান‘-এ গিয়ে জানাতে। 
সাবিনা মণ্ডল বললেন, ‘‘সেই মতো এদিন গোধূলি লজে আমাদের সব কাগজপত্র নিয়ে যাই। সেখানে বলা হয়, এখানে কিছুই আমরা করতে পারব না। যেতে হবে এমএলএ’র কাছে। 
জাহানারা বিবি জানান, ‘‘আমরা ভৈরবস্থানে বাঁকুড়ার এলএলএ নীলাদ্রি শেখর দানার অফিসে যাই প্রায় ৩০জন মহিলা। তিনি আমাদের দেখেই ‘জয় শ্রী রাম‘ ধ্বনি দিতে থাকেন। অন্নপূর্ণার টাকা চাইতেই তিনি বলেন, ‘‘আগে আমাদের হিন্দু মহিলাদের হোক। তার পর মুসলিম মহিলারা পাবে।‘‘ 
সারিফা বিবি জানিয়েছেন যে বিধায়ক এ কথাও বলেছেন যে মুসলিমদের ভোটে আমরা জিতিনি। তাই তোমাদের ব্যাপারটা পড়ে ভাবা হবে।‘‘ তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানতে চান, এমএলএ মুসলিম-হিন্দু কিভাবে ভাগ করেন? আমরা তো ভোট নিয়ে কোন কথা বলতে যাইনি। আমরা সরকারি শিবিরে গিয়েছিলাম। 
লুৎফা বিবি, জরিনা বিবি, খুশবু বিবি, হাসিনা বিবি, আয়েষা বিবি, ফুলসুরা বিবি সহ জড়ো হওয়া বাকি মহিলারা বলেছেন, আমাদের গলা দিয়ে এক ডালা ভাতও নামবে না। চরম অপমানিত মনে হচ্ছে নিজেদের। 
এদিন বিষয়টি বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি ‘জয় শ্রী রাম’ বলেছি। কিন্তু কোনও মহিলাকে অপমানজনক কথা বলিনি। বলেছি, বিষয়টি দেখা হবে। আর কে কোন অপমানজনক কথা বলেছে সেটা তো আমি জানি না। বহু লোক ছিলেন আমার সঙ্গে। তার দায়ভার আমি নেব না।’’

Comments :0

Login to leave a comment