এলপিজি বুকিং ও তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, বুকিং করার আড়াই দিনের মধ্যেই মিলবে সিলিন্ডার বুধবার এমই দাবি করল পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। এলপিজি ঘাটতি আতঙ্কিত হয়ে বুকিংয়ের কোনও প্রয়োজন নেই জানালেন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরান আক্রমণের পর গোটা মধ্য প্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের আবহাওয়ায় এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ৮ দিনের মাথায় বাজার থেকে গ্যাস অমিল। প্রথমে বলা হয়েছিল, বুকিংয়ের ২১ দিনের মাথায় গ্যাস মিলবে তা চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বেড়ে হয় ২৫ দিন। তারপর সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা দাম বাড়িয়ে দেয় মোদী সরকার। রাতারাতি গ্যাসের দাম বিপুল পরিমাণ বাড়িয়ে সাধারণের হেঁসেলে ত্রাহি ত্রাহি রব ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধের অজুহাতে বাজার থেকে সব কোম্পানির রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার রাতারাতি উধাও হতে শুরু করেছে। বৈধ পথে গ্যাস না মিললেও অনেক বেশি দাম দিলে তা সহজে এসে যাচ্ছে নাগালে। এককথায় রাজ্য জুড়ে ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারি। মহাসঙ্কটে জেরবার রাজ্য তথা দেশবাসী। গ্যাস বুকিং করেও মিলছে না গ্যাস। হঠাৎ করেই যেন বাজার থেকে বেশিরভাগ সিলিন্ডার উধাও হয়ে গিয়েছে। গ্যাস না পেয়ে জেরবার হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধে রান্নার গ্যাস নিয়ে মোদী মোদীর তাঁর বন্ধু ট্রাম্পের শর্তে আমেরিকা থেকে গ্যাস কেনার চুক্তি করেও দেশে রান্নার গ্যাসের চাহিদা সামলাতে পারছেন না এমই অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। যুদ্ধে দেশের মজুত কমে আসায় চাহিদা মেটাতে রান্নার এলপিজি গ্যাসের জরুরি উৎপাদন বাড়াতে এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট (এসমা) জারি করে মোদী সরকার। দেশের সরকারি এবং বেসরকারি সমস্ত তৈল শোধনাগারকে এসমা জারি করেই বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে এলপিজি গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ দেয় কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তার কয়েকঘন্টা পরেই সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা দাম বাড়িয়ে দেয় মোদী সরকার। তারপর শুরু হয় আতঙ্ক, গ্যাস না পেয়ে জেরবার হতে থাকেন দেশের সাধারণ মানুষ।
গ্যাস নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বুধবার এমনই আশ্বাস দিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, দেশে এলপিজি ও খনিজ তেলের সরবরাহ এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্যাস বুক করলে সর্বোচ্চ আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পৌঁছে যাবে গ্রাহকের বাড়িতে। ফলে আতঙ্কে বাড়তি সিলিন্ডার বুক করার প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এদিন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে একথা বলেন, মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। তিনি বলেন দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ভালো। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সরকার এবং তেল কোম্পানিগুলি সরবরাহের উৎস সম্প্রসারণের জন্য কাজ করেছে এবং জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিক রাখার জন্য অন্যান্য উৎস থেকে এলএনজি কার্গোও কিনেছে। বর্তমানে, ভারতের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিরাপদ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ রয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির খবর সামনে আসার পর থেকেই অনেক গ্রাহক আগেভাগে গ্যাস বুক করে রাখছেন। আতঙ্কের ফল বলেই মনে করছে সরকার। তাঁর দাবি, দেশে খনিজ তেল ও গ্যাসের জোগান এখনও স্থিতিশীল। ভারতের দৈনিক খনিজ তেলের ব্যবহার প্রায় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল। দেশ অন্তত ৪০টি ভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানি করে। যদিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা কিছু সরবরাহ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ব্যাহত হয়েছে, তবু প্রায় ৭০ শতাংশ তেল অন্য রুট দিয়ে দেশে পৌঁছাচ্ছে। সুজাতা শর্মা বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে রান্নার গ্যাসের ঘাটতিতে না পড়েন, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই কারণে বর্তমানে গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
LPG Bookings- Oil Ministry
বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই মিলবে সিলিন্ডার, পেট্রলিয়াম মন্ত্রক
×
Comments :0