গবেষকরা চুক্তি ভিত্তিক শ্রমিক। ‘নো ওয়ার্ক নো পে‘। এমনকি কাজ করিয়েও তিন মাসের ফেলোশিপ দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন গবেষক ছাত্ররা।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চারশোর বেশি গবেষক এবং স্নাতকোত্তর ছাত্র-ছাত্রীদের রাষ্ট্রীয় উচ্চশিক্ষা অভিযানের বিভিন্ন গবেষণা প্রোজেক্টের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। জানুয়ারির ৩ তারিখে ইন্টারভিউ হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁদের নিয়োগ করা হয় ২১ জানুয়ারি। ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের এই প্রোজেক্টের সময়সীমা রয়েছে।
গবেষক ছাত্ররা জানাচ্ছেন, নিয়োগের সময় বলা হয়েছিল ক্যাটাগরি-১ স্কলারদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ও ক্যাটাগরি-২ স্কলারদের প্রতি মাসে ৩২ হাজার টাকা ফেলোশিপ দেওয়া হবে। যেহেতু জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখে নিয়োগ হয়েছে তাই গোটা মাসের টাকা দেওয়া হবে না। ৯১৬৭ টাকা দেওয়া হবে জানুয়ারি মাসের জন্য। কিন্তু দু’মাস হয়ে যাওয়ার পরও কোনও টাকা দেওয়া হয়নি।
‘রাইট অফ রুসা স্কলার‘ নামক একটি মঞ্চ তৈরি করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছেন। গত সোমবার তাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে উপাচার্য ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘রুসা‘-র কোনও টাকা এখন এসে পৌঁছায়নি। কিন্তু ছাত্রদের বক্তব্য, ‘রুসা‘-র এই প্রোজেক্টের অন্তর্গত সমস্ত সেমিনার হয়েছে সেখানে সব টাকাই ‘রুসা‘-র ফান্ড থেকে ব্যবহৃত হয়েছে।
রাইটস অফ রিসার্চ স্কলার মঞ্চের সদস্য বর্ণিল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই প্রজেক্টের অন্তর্গত ২৭ কোটি টাকা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে। কিন্তু উপাচার্য দাবি করেছেন যে ২৭ কোটি টাকা রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তর থেকে এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাই টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। মাত্র ১০ হাজার টাকা ‘ট্রাভেল অ্যালাউন্স’ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন উপাচার্য। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন আন্দোলনরত গবেষক পড়ুয়ারা। তাঁরা বলেছেন, উপাচার্য প্রাপ্যের অর্ধেক টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে দেওয়ার প্রস্তব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাবও খারিজ করে দেন তাঁরা।
বর্ণিল জানাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিভি দেখে ইন্টারভিউ নিয়ে তারপর নিয়োগ করেছে, সেই নিয়োগপত্র রয়েছে আমাদের কাছে। শেষ দু’মাস আমরা কাজ করেছি। আমাদের ন্যায্য ফেলোশিপ ‘রুসা‘-র দেওয়া টাকা থেকেই দিতে হবে।
তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে তাদের ন্যায্য ফেলশিপ না দেওয়া হয় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে।
CU Research Scholar
প্রাপ্য দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়, আন্দোলনে কলকাতার গবেষক-ছাত্ররা
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানে গবেষক ছাত্ররা।
×
Comments :0