Women Reservation Bill

মহিলাদের আসন সংরক্ষণ: অখিলেশের সঙ্গে দেখা করলেন মহিলা নেতৃবৃন্দ

জাতীয়

মহিলাদের আসন সংরক্ষণ আইনের থেকে আলাদা করতে হবে ডিলিমিটেশনকে। প্রয়োগ করতে হবে মহিলা সংরক্ষণ আইনের। এই দাবিতে সংসদে সরব হতে হবে বিরোধীদের। এই মর্মে আবেদন জানিয়ে লক্ষ্ণৌয়ে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ সিং যাদবের সঙ্গে দেখা করলেন মহিলা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
গতকাল, মঙ্গলবার, সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সহ বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেখা করেন অখিলেশের সঙ্গে। ছিলেন সমাজকর্মী এবং নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও। 
সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হবে ২১ জুলাই। অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে তার মূল রূপে প্রয়োগের দাবি তোলার জন্য অখিলেশ যাদবের কাছে আবেদন জানান তাঁরা। বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দের কাছে একই দাবি নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিধিদল। 
সংসদে মহিলা বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে নতুন সংবিধান সংশোধনী জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল সংসদে পেশও হয়। তার আসল উদ্দেশ্য বিজেপি’র শক্তির ক্ষেত্র উত্তর ভারতে আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া। এদিকে দেশে জনগণনার কাজ সম্পন্ন হয়নি। মহিলা সংরক্ষণকে সামনে রেখে আসন বাড়িয়ে নেওয়ার বিল পাশ হয়নি লোকসভায়। সেই কারণে মহিলা আসন সংরক্ষণের সঙ্গে ডিলিমিটেশনের বিষয়টিকে জুড়ে না দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে। 
লক্ষ্ণৌয়ে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পক্ষে মধু গর্গ ও বন্দনা রাই, এনএফআইডব্লিউ-র কান্তি মিশ্র, এআইপিডব্লিউএ-র মিনা সিং ও সরোজিনী বিস্ত, সাঁঝি দুনিয়া-র রূপরেখা ভার্মা, সমাজবাদী পার্টির নেত্রী বন্দনা মিশ্র সহ সমাজকর্মী রীতা চৌধুরী।
প্রতিনিধি দলের দলের তরফে তাঁকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিজেপি’র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে আসন পুনর্বিন্যাস ও জনগণনার সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ-এর  বিষয়টিকে যুক্ত করে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে,  আসন পুনর্বিন্যাস ও জনগণনার সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ-এর বিষয়টিকে যুক্ত করলে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া আইনটি কার্যকর হতে দেরি হতেই থাকবে। যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়েছে যে, সংসদের এই বাদল অধিবেশনেই যেন নারী সংরক্ষণ বিলটি তার মূল রূপে পাস করা হয়, যাতে আসন্ন ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।
অখিলেশ যাদব প্রতিনিধি দলের পেশ করা স্মারকলিপির বিষয়ে সহমত প্রকাশ করে বলেন,  তাঁর দল সংসদে ২০২৩ সালে পাস হওয়া ‘নারী সংরক্ষণ বিল’-এর সঙ্গে যুক্ত আসন পুনর্বিন্যাস ও জনগণনার শর্তগুলির বিরোধিতা করেছিল। সেই সঙ্গে তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে, আসন্ন বাদল অধিবেশনেও সমাজবাদী পার্টি  ‘নারী সংরক্ষণ বিল’টিকে তার মূল রূপে অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানাবে।
গত কয়েক দিনে প্রতিনিধি দলটি উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাই ও  ‘আপ’-এর সর্বভারতীয় নেতা সঞ্জয় সিংয়ের সঙ্গেও দেখা করে। তাঁরা ও প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁদের দলের তরফেও নারী সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টির সমর্থনে সংসদে সোচ্চার হবে। পাশাপাশি, সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন তাঁরা যৌথভাবে সংসদের বাইরে একটানা ধর্নাও দেবেন।

Comments :0

Login to leave a comment