Wemen's day

থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে লড়ে স্বনির্ভর হওয়ার অদম্য জেদ সঙ্গীতার

জেলা স্পটলাইট

Soptlipht

অভীক ঘোষ: পাণ্ডুয়া

বেঁচে থাকার অদম্য জেদ ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। দু’বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেও থামেনি বেঁচে থাকার লড়াই। 
বাংলায় স্নাতকোত্তর সঙ্গীতার পড়াশোনার স্বপ্নে বাধ সেধেছে আর্থিক অনটন। 
পাণ্ডুয়ার শিখিরা চাপ্তা গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলে গ্রামের বছর ছাব্বিশের যুবতী সঙ্গীতা রায়। ছ’মাস বয়স থেকে শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াই চলছে তাঁর। বয়স যখন ৯ মাস তখন বাড়ির লোক জানতে পারেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সঙ্গীতা। ৯ মাসের ওই শিশুর বাবা শ্যামসুন্দর রায় এবং মা পূর্ণিমা রায়ের অদম্য লড়াইয়ে নানান বাধা অতিক্রম করে সঙ্গীতা আজ এমএ পাস। 
সঙ্গীতার মা পূর্ণিমা দেবী নারী দিবসে জানালেন, মেয়ের জন্মের পর থেকেই শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করার জীবন মোটেও সহজ ছিল না। বাবা শ্যামসুন্দর রায়ের একটি ছোট সেলুন আছে পাড়ায়। তাও ঠিক ভাবে চলে না। গ্রামে গ্রামে সবজি বিক্রি করে কোনোক্রমে দিন যাপন করে পরিবার। 
ছোটবেলা থেকে প্রতি মাসে রক্ত পাল্টানো, সারা মাসের ওষুধের জোগান দিতে হিমশিম খেয়েছেন পরিবারের লোকজন। তার মধ্যে সঙ্গীতা এবং তাঁর ছোট ভাই সুমনের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন বাবা-মা। 
এদিন সঙ্গীতা বলেন, একবার নয়, দু - দু’বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে সে। চিকিৎসকদের চেষ্টায় অস্ত্রপচারের পর এখন তাঁকে ৬ মাস পর পর রক্ত পাল্টাতে হয়। নিয়মিত ওষুধ লাগে। তবুও দু’চোখ ভরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন প্রতিদিন বাঁচিয়ে রাখে তাঁকে। 
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা, হরিদাসপুর উচ্চ বিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিকের পর ইটাচুনা বিজয় নারায়ণ মহাবিদ্যালয় স্নাতকোত্তর হয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৪-এ এমএ পাস করেছেন সঙ্গীতা। ডিএলএড বা বিএড করতে চাইলেও অর্থনৈতিক অনটনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা রয়েছে এখনও।  নিজের ওষুধ ও কম্পিউটার কোর্সের খরচা চালানোর জন্য বাড়িতে ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। 
রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সঙ্গীতাদের মতো নারীদের স্বনির্ভরতার জন্য লড়াই মিলে যাচ্ছে নারী দিবসের আহ্বানে।

Comments :0

Login to leave a comment