মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থেকে একের পর এক ধর্ষণ-খুন তদন্তকে ধামাচাপা দিয়েছেন। এখন বারুইপুরের ধর্ষণ-খুন মামলায় দোষীদের শাস্তি চেয়ে মোমবাতি মিছিল করলেন মমতা ব্যানার্জি।
সোমবারই বারুইপুর প্রসঙ্গে বক্তব্য জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অপরাধীদের চরম সাজা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন প্রতিবাদীদেরও। ক্ষোভের জেরে দলবদ্ধ মারে মৃত্যুর ঘটনায় ‘সাম্প্রদায়িক মনোভাব’ দেখছেন তিনি।
বারুইপুরে কিশোরীর ধর্ষণ খুনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে পুলিশ। বিজেপি’র এক নেতার কথায় অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ায় তীব্র হয় ক্ষোভ। প্রতিবাদে রবিবার এবং সোমবার শামিল থেকেছে সিপিআই(এম)। সোমবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী। ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক রতন বাগচী সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভে ছিলেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সদস্য মোনালিসা সিন্হা সহ নেতৃবৃন্দ।
এদিকে সোমবার বারুইপুরে তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মন্ডল ও রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও তৃণমূল বিধায়ক বিমান ব্যানার্জি। বারুইপুর যাওয়ার পথে একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে যান। তৃণমূলের অভিযোগ, রবিবার রাতে বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মমতা। সেই সময় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাঁকে।
এরপর সোমবার বিকেলে কালীঘাটে মমতা মোমবাতি হাতে মিছিল করেন। সঙ্গে মিছিল ছিলেন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দাররা। যদিও ২০১১ থেকে রাজ্যে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও সেই বিষয়ে কর্যকর ভূমিকা নেয়নি তৃণমূল পরিচালিত সরকার। কামদুনি, পার্ক স্ট্রিট থেকে হাঁসখালি সম্প্রতি আরজি করের ঘটনায় কার্যত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাই করে গেছেন মমতা।
সোমবার সকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বলেছেন, "আমি কাল নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি বিচার চেয়েছে পরিবার। ইতিমধ্যেই ‘সিট‘ গঠন করা হয়েছে। চারজনের বিরুদ্ধে পরিবার অভিযোগ করেছিল। যার মধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ, ‘সিট’ কাজ করছে।’’
তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিবার যেভাবে বিচার চেয়েছে তা সরকার ও পুলিশ করছে। মোট চারটি মামলা করা হয়েছে। দল বেঁধে হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এর পিছনে সাম্প্রদায়িক মনোভাব কাজ করেছে। রেল লাইন অবরোধ করা হয়েছে। সিআরপিএফের দুজন যখন আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ি জ্বালানো হয়েছে। এরপরই প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা তো নির্যাতিতার বিচার দেবই। সেই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার যুক্ত সকলকে ভুগতে হবে।’’ তিনি বলেছেন যে ভোটের পর যারা ঘটে ঢুকে গিয়েছিল তারা এই ঘটনায় হামলা চালিয়েছে।
তবে সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ পরিষ্কার জানিয়েছেন যে সব অপরাধীর গ্রেপ্তারি এবং শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চলবে।
Comments :0