ভোটের বাদ্যি বাজতেই ফের প্রতিশ্রুতির পসরা নিয়ে ধূপগুড়িতে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। বৃহস্পতিবার সাঁকোয়াঝোড়া ফনির মাঠের জনসভা থেকে অভিষেক ব্যানার্জি ঘোষণা করেছেন, তৃণমূল জিতলে ছয় মাসের মধ্যে ধূপগুড়ি পৌরসভার নির্বাচন হবে। এমনকি উন্নয়নের ডঙ্কা বাজিয়ে তাঁর দাবি, ছয় মাসে কাজ না হলে ‘বোর্ড বদলে দেওয়া’ হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে পৌরভোট নিয়ে টালবাহানায় জনমানসে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আঁচ করেই এই তড়িঘড়ি ‘ডেডলাইন’ রাজনীতি।
এদিন সভায় অভিষেক বিজেপির সমালোচনা ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সরব হলেও, ধূপগুড়ির বুনিয়াদি সমস্যাগুলি নিয়ে কার্যত মৌন ছিলেন। গত কয়েক বছরে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার শোচনীয় দশা কিংবা কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি তাঁর বক্তৃতায়। সরকারি প্রকল্পের খতিয়ান পেশ করে তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবসাথী’র কথা বললেও, পাহাড়-প্রমাণ বেকারত্ব আর পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার সুনির্দিষ্ট কোনো দিশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। অভিষেকের এই বক্তব্যকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী নিরঞ্জন রায়। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল আর বিজেপি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একজন ‘গ্যারান্টি’ দিচ্ছেন, আর একজন ‘ডেডলাইন’ দিচ্ছেন। গত চার বছর ধরে ধূপগুড়ির মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে কেন? এখন ভোটের মুখে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পৌরভোটের মূলো ঝোলানো হচ্ছে। ধূপগুড়ির মানুষ কাজ চায়, নিকাশি চায়, পরিযায়ী শ্রমিকের তকমা থেকে মুক্তি চায়। দিদি-ভাইপোর এই ভাঁওতাবাজি আর ধোপে টিকবে না। মানুষ এবার ব্যালটেই এর জবাব দেবে।’’
দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও নিচুতলার কর্মীদের ওপর মানুষের ক্ষোভ যে চরমে, তা এদিন পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি। সভায় কর্মীদের কড়া দাওয়াই দেওয়ার পাশাপাশি জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নের গ্যারান্টি আসলে এক প্রকার নির্বাচনী স্টান্ট। যে উন্নয়নের কথা শাসকদল বলছে, তার ছিটেফোঁটাও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি— যার প্রমাণ ধূপগুড়ির প্রতিটি বুথে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।
West Bengal Elections
গ্যারান্টির নামে ভাঁওতাবাজি! ধূপগুড়িতে অভিষেকের ছয় মাসের ‘ডেডলাইন’ রাজনীতি
×
Comments :0