Saline Medinipore

মেদিনীপুর মেডিক্যালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ স্বাস্থ্য দপ্তরের

রাজ্য

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে নজরদারি আরও কড়া করার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গোটা ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসাকর্মীদের নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন গাফিলতি আর না ঘটে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রোগী মানসি দে, মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা। গত ৫ জুলাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, গত ৮ জুলাই স্যালাইন চলাকালীন রোগীর বুকে জ্বালাপোড়ার কথা জানান। এরপর তার ছেলে স্যালাইনের বোতল পরীক্ষা করে দেখেন, তাতে থাকা মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ চলতি বছরের মার্চ মাস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘স্ট্রোক ছাড়াও আমার মায়ের একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কীভাবে তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হল, তার জবাব চাই।’
অভিযোগ সামনে আসার পর রোগীকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপার তথা ভাইস-প্রিন্সিপাল ইন্দ্রনীল সেন জানান, বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার কথায়, ‘হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী মজুত থাকে। কীভাবে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহার করা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত নজরে আসায় সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রোগীকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একই হাসপাতালে এক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরও বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এবার ফের একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Comments :0

Login to leave a comment