জয়ন্ত সাহা
এসআইআর তালিকায় কোচবিহার জেলার এক লক্ষ ২১ হাজার ৭৯৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত,স্থানান্তরিত। আর রয়েছে "বিবেচনাধীন" ভোটারেরা! জেলার সাবেক ছিটমহলের ভোটারদের সিংহভাগ রয়েছেন ‘‘বিবেচনাধীন’’ তালিকায়! নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় আর ক্ষোভে ফুঁসছেন সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ভারতের ১১১ টি ছিটমহলের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫১টি ছিট মহল বিনিময় হয়। সেই সময় বাংলাদেশের ছিট মহলের বাসিন্দারা ভারতের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং ভারত সরকার তাদের নাগরিকত্বের নথিপত্র প্রদান করে। সেই সময় ভোটাধিকার পেয়েছিলেন সাবেক ছিটমহল তথা কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির বাসিন্দারা ৷ কিন্তু, এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল সেই সাবেক ছিটমহলের সিংহভাগ মানুষের নাম 'আন্ডার অ্যাজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে। কেন এমনটা হল তাঁদের সঙ্গে, এই প্রশ্নে আতঙ্কিত ছিটমহলের ভোটাররা। এসআইআরের শুরুতেই ফর্মফিলাপ থেকে শুনানি সবেতেই সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের মনে আশঙ্কা ছড়িয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। দিনহাটা মহকুমার অভ্যন্তরে থাকা অন্তত তিনটে সাবেক ছিটে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক সব চাইতে বেশি। যদিও কোচবিহারের জেলাশাসক রাজু মিশ্র এবিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নি। দিনহাটার বামনহাট -১ এলাকার সাবেক ছিট পোয়াতুরকুঠি এলাকার ৮৯৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩৩৯ জনের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। বাকিদের নামের পাশে "বিবেচনাধীন",ছাপ্পা রয়েছে। আবার নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে থাকা মশালডাঙা সাবেক ছিটের থেকেও খবর মিলেছে সেখানে ৩০০ ভোটারের নামের পাশে রয়েছে ‘‘বিবেচনাধীন’’ ছাপ্পা। সব চাইতে বিপদে রয়েছেন বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে থাকা সাবেক ছিট ‘‘বাত্রিগাছ ফ্র্যাগমেন্ট’’। এখানকার মোট ভোটার ১০০৫ জন। অথচ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মাত্র ২৮১ জন ঠাঁই পেয়েছেন। বাকি সবাই ‘‘বিবেচনাধীন’’। বাত্রিগাছ ফ্র্যাগমেন্ট সাবেক ছিটের বাসিন্দা নূর আলি বলেন, ‘‘আমাদের ভবিষৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে লম্বা লাইনে দাঁড়াচ্ছি। যারা ভিন রাজ্যে কাজ করছিল তালিকায় ‘‘বিবেচনাধীন’’ শুনে কাজ ছেড়ে গ্রামে ফিরে এসেছেন। ব্যাঙ্গালোরে কাজ করতেন শোবাহান আলী। তাঁরও নামের পাশে ‘‘বিবেচনাধীন’’ শীলমোহরের কথা শুনেই কাজ ফেলে চলে এসেছেন বাড়ি। শুক্রবার তিনি জানালেন, ফের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছি। তালিকায় নাম না ওঠা পর্যন্ত আর কাজে যেতে পারছি না। শুধু সাবেক ছিটের বিবেচনাধীন ভোটারেরাই নয়, জেলার অনেক পরিবারকেই জেলা শাসকের দপ্তরে ফের নথি নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সুদেব দাসের পরিবারের সবার নাম উঠলেও তাঁর স্ত্রী ‘‘বিবেচনাধীন’’। স্ত্রীকে নিয়ে তিনিও নথি জমা দিয়ে উৎকন্ঠা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। শিতলখুচির ডাকঘরা এলাকার কন্টু সিংহ ছুটছেন জেলা শাসকের দপ্তরে। তিনি বলছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার, বাবা,মা,এবং দাদার নাম ছিল। এবারে সবার নাম আছে শুধু আমার নামের পাশেই ‘‘বিবেচনাধীন’ ছাপ পড়েছে। আরেক বিবেচনাধীন সুধীর চন্দ্র সূত্রধরের অভিযোগ, আমার নামের নথি দিয়েই আমার তিন ছেলের নাম উঠেছে চূড়ান্ত তালিকায় অথচ আমিই ‘‘বিবেচনাধীন’’। এসব কি করে হয়? তিনিও চূড়ান্ত তালিকায় নাম তুলতে নথি নিয়ে ছুটছেন জেলাশাসকের দপ্তরে।
Comments :0