Suvendu Adhikari

বিচারের আশ্বাস কম, মুখ্যমন্ত্রীর মুখে প্রতিবাদ দমনের কথা

রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বারুইপুরের নির্যাতীতার পরিবারকে তিনি কী আশ্বাস দিলেন, তদন্ত কোন পথে এগোবে, দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেই নিয়ে বেশি বাক্য ব্যায় করলেন না মুখ্যমন্ত্রী। এসপি আফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের লাগাতার তিনি নিশানা করে গেলেন। বুঝিয়ে দিলেন দমন পীড়ন আইনকে ব্যবহার মুখ বন্ধ রাখা হবে প্রতিবাদীদের। 
মঙ্গলবার বারুইপুরে এসপি অফিসে পুলিশ আধিকারিক এবং নির্যাতীতার পরিবারের সাথে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যেই পরিবার গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। রাজ্যে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য সরকার সব সময় তৎপর।’ এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মুখে শোনা যায় সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক ভাষণ। তিনি বলেন, ‘যারা পুলিশের ওপর হামলা করেছে এবং এই ঘটনা ঘটনোর জন্য উষ্কানি দিয়েছে তারা ছাড়া হবে না। ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুড় করেছে, রেল লাইন উপড়ে দিয়েছে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। কেউ কেউ ০ থেকে ১ হয়েছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উষ্কানি দিচ্ছে।’
উল্লেখ্য রবিবার যখন এই ঘটনা সামনে আসে গ্রামে মানুষ যখন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তখন গ্রামবাসীদের এই আন্দোলনে পাশে ছিল স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। পরিবারের সাথে দেখা করেছে সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী, রতন বাগচীরা। সোমবার দোষীদের শাস্তির দাবিতে বারুইপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এসএফআই, ডিএয়াইএফআই এবং মহিলা সমিতি। আর এদিন বারুইপুরে পরিবারের সাথে কথা বলতে গিয়ে বামপন্থীদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন নির্যাতীতার পরিবারের পাশাপাশি গতকাল রাতে খুন হওয়া নাবালক এবং রবিবারের ঘটনায় দলবদ্ধ মারে মৃত যুবকের পরিবারের সাথেও তিনি কথা বলেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতীতার পরিবারের সাথে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন। 
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন নির্যাতীতার পরিবার পুলিশি তদন্ত এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তষ্ট। উল্লেখ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ করে এসেছেন গ্রামবাসীরা। তাদের কথায় পুলিশ তৎপর থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতো না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন পুলিশের ভূমিকায় কোন গাফিলতি থাকলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরিবার এবং গ্রামবাসীরা পুলিশের নিষ্কৃয়তা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হয়ে এসেছে। রাজ্যের শাসক দল বদলেছে পুলিশের চরিত্র বদলায়নি। তাদের দলদাস নীতি বদলায়নি। শাসকের হুকুমদারি করছে, ক্ষমতাবানদের পাহাড়া দিচ্ছে কিন্তু সাধারণ মানুষের কোন নিরাপত্তা নেই।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন বারুইপুরের এসপি অফিস থেকে ভার্চুয়ালি রাজ্যের প্রতিটা থানার সাথে তিনি বৈঠক করেছেন। পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে রাজ্যে এই ধরনের নারী নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে। বিএনএস এবং সুপ্রিম কোর্টের গাইড লাইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। 
এসপি দপ্তরে এদিন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ, তৃণমূল বিধায়ক বিমান ব্যানার্জি এবং তিনজন বিজেপি বিধায়কের সাথে বৈঠক করেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment