দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে বিদ্যালয়ে গত শনিবারের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন খোদ মার্কিন আধিকারিকরা। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুইজন মার্কিন কর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। যদিও তদন্ত এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে এই প্রাথমিক অনুমান ওয়াশিংটনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত শনিবার ইরান ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রথম দিনে মিনাবের ওই স্কুলটিতে হামলা চালানো হয়। জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি জানিয়েছেন, এই হামলায় ১৫০ জন ছাত্রী প্রাণ হারিয়েছে। যদিও এই প্রাণহানির সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন আধিকারিকরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত এই হামলার জন্য দায়ী। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা কেন স্কুলটি লক্ষ্যবস্তু হলো, তা নিয়ে এখনও কাজ চলছে।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বুধবার স্বীকার করেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে। তিনি বলেন, "আমরা কখনোই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করি না, তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।"
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও বলেন, ‘আমেরিকা কখনই বেসামরিক মানুষ বা শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না, বরং ইরান সরকারই নিয়মিত এমন কাজ করে।’ তবে 'ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার' বিষয়টি তদন্ত করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানত এমন কোন স্কুলে হামলা হওয়ার কথা নয় এবং যদি এটি মার্কিন হামলা হয়ে থাকে তবে তার উপযুক্ত তদন্ত হবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে কোন স্কুল বা হাসপাতালে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর ইতিমধ্যে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, "যারা এই হামলা চালিয়েছে, তদন্ত করার প্রাথমিক দায়িত্ব তাদেরই।"
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত ছাত্রীদের শেষ কৃত্যের দৃশ্য প্রচার করা হয়। সারিবদ্ধ ছোট ছোট কফিনগুলো ইরানের পতাকায় ঢাকা ছিল এবং শোকার্ত মানুষের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে সেগুলো সমাধিস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
Iran
ইরানের স্কুলের হামলার সাথে যুক্ত থাকতে পারে আমেরিকা, মনে করছেন সেদেশের অনেকেই
×
Comments :0