CUBA

এবার লক্ষ্য কিউবা : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক

ইরানের পর আমেরিকার লক্ষ্য কিউবা। স্পষ্ট করলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন বর্তমানে ইরানের যুদ্ধ শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সংঘাত শেষ হওয়ার পরপরই আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য হবে কিউবা। গতকাল হোয়াইট হাউসে মেজর লিগ সকার (MLS) চ্যাম্পিয়ন 'ইন্টার মিয়ামি সিএফ'-এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
কিউবাতে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিপ্লবের আগে আমেরিকান কোম্পানিগুলো কিউবার চিনি ও তামাক শিল্প নিয়ন্ত্রণ করত। ট্রাম্পের লক্ষ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা আবারও সেখানে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ পায়।
লিওনেল মেসি ও ইন্টার মিয়ামি দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মেটানোই এখন তার প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। কিউবান বংশোদ্ভূত ক্লাব মালিক হোর্হে মাস-এর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে এটা (ইরান যুদ্ধ) শেষ করতে চাই। তবে এটা কেবল সময়ের অপেক্ষা খুব শীঘ্রই আপনি এবং আপনার মতো আরও অনেক সাধারণ মানুষ কিউবায় ফিরে যেতে পারবেন।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান সংঘাতের পর মার্কিন নজর হতে যাচ্ছে কিউবা। তিনি দাবি করেন, হাভানা ওয়াশিংটনের সাথে চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। তার ভাষায়, ‘কিউবা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে। আমরা আপনাদের (কিউবান আমেরিকানদের) ফিরে পেতে চাই।’
ইরান ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। উল্লেখ্য ইরানের সাথে যুদ্ধে যে লাগাতার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চ্যালেজ্ঞের মুখে পড়ছে সেটা বার বার এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ক্ষমতাবান দেখানোর মোরিয়া চেষ্টা করছে ট্রাম্প। ইরানের একাধিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মার্কিন সেনা। সেই কথা শোনা যাচ্ছে না ট্রাম্পের মুখে। ইজরায়েলও কোন কথা বলছে না এই নিয়ে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের বিমান বাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু ইজরায়েল সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রের মধ্য প্রাচ্যের একাধিক বন্ধু দেশের ওপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সঙ্গীদের পাল্টা দিতে তৈরি।
তিনি দাবি করেন, মাত্র তিন দিনে ইরানের ২৪টি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলে রাখা ভালো ট্রাম্পের এই তথ্যের সাথে বাস্তবের কতটা মিল রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধ জাহাজের ওপর মার্কিন হামলার পাল্টা ওই একই জায়গায় আরও একটর যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে ইরান।
ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতারা এখন আলোচনার জন্য যোগাযোগ করছেন। 
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা ছিল, তা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানান ট্রাম্প। তিনি স্বীকার করেন যে, ইরান পরিস্থিতির কারণে তাকে কিছুটা অন্য পথে হাঁটতে হয়েছে, তবে শীঘ্রই জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কমাতে আরও কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কিউবার সাথে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের পর কিউবাকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক প্রভাব কমানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছেন। 
কিউবার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে কিউবাকে অর্থনৈতিক ভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তারপরও কিউবার সামাজিক প্রকল্প গুলোকে কোন ভাবে আটকাতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সঙ্কটের সময়েও জন পরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অটুট রাখার লড়াই চালাচ্ছে সমাজতান্ত্রিক কিউবা।
কিউবার অর্থমন্ত্রী রেগুয়েইরো অ্যালে পেশ করেছেন বাজেট। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের সর্বজনীন সব প্রকল্প বজায় রাখার ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন সামাজিক সুরক্ষা বজায় রাখা হবে কঠিন অর্থনৈতিক সঙ্কট সত্ত্বেও। 
মার্কিন আগ্রাসনকে বার বার ল্যাতিন আমেরিকায় চ্যালেজ্ঞ জানিয়েছে কিউবা। ফিদেলের নেতৃত্বে বার বার মার্কিন আগ্রাসনকে রুখে দিয়েছে কিউবা। তাঁর প্রয়ানের পরও সেই লড়াই জারি রেখেছে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিউবা।
ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা মানবোন্নয়ন সূচকে ধনী পশ্চিমী বহু দেশের তুলনায় এগিয়ে। সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদে সরকারি ব্যয়ের অনুপাতও বেশি। এমনকি অন্য বহু দেশকে চিকিৎসক দল এবং স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়ে সহায়তা করেছে কিউবা।

Comments :0

Login to leave a comment