ANAYKATHA | 12 JUNE WORLD DAY AGAINST CHILD LABOUR | KRISHNU BHATTACHARJEE | NATUNPATA | 4th YEAR | 15 JUNE 2026

অন্যকথা | মুক্তির ঘুড়ি কাকে খবর পাঠাচ্ছে? | কৃশানু ভট্টাচার্য্য | নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ১৫ জুন ২০২৬

নতুনপাতা/মুক্তধারা

ANAYKATHA  12 JUNE WORLD DAY AGAINST CHILD LABOUR  KRISHNU BHATTACHARJEE  NATUNPATA  4th YEAR  15 JUNE 2026

অন্যকথা | মুক্তির ঘুড়ি কাকে খবর পাঠাচ্ছে?

              কৃশানু ভট্টাচার্য্য

নতুনপাতা | বর্ষ ৪ | ১৫ জুন ২০২৬

কোলাহল তো অনেক হলো,  অনেক সেমিনার। কিন্তু দিনের শেষে সেই হাতে পেনসিল। 
করোনা পূর্ব সময়ে পরিস্থিতি ছিল একরকম। অতিমারীর ভয়ংকর দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠলো। আগে সপ্তম অষ্টম শ্রেণীর ছেলেরা মেয়েরা পড়াশোনার গণ্ডি ত্যাগ করে ছুটে যেত কাজের জগতে। ‌ এখন সেটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে ঠেকেছে। ‌ অথচ আকাশ ভরা গাল গল্পের তো অভাব নেই।‌ মাঝেমধ্যেই আলোচনা সভা হয় বক্তারা আসেন গাড়ি করে, শিশুশ্রম বন্ধ করবার বিষয়ে নানা ধরনের জ্ঞানগর্ভ তত্ত্ব এবং তথ্যতালাস চলে কয়েক ঘন্টা ধরে। আলোচনা শেষে চোখের জল ফেলতে ফেলতে ঘরে ফিরে যাওয়াও হয়। দুদিন বাদে ওই গাড়িটা মুছবার জন্য একজন শিশু শ্রমিক সেই কাজে লাগানো হয়। এটাই এদেশের বাস্তবতা। 
অনেকদিন আগে দূরদর্শনে গরমের ছুটির সময় একটা অনুষ্ঠান হতো। নাম ছিল ছুটি ছুটি। সেই অনুষ্ঠানটির শীর্ষক সংগীতের শেষ দুটি লাইন ছিল -" যে ছেলেটা কাজ করে খায় রাস্তায় চায়ের দোকানে তার ছুটি পালালো কোথায়, তার ছুটি রাখা কোনখানে।" এই গান বেজেছে অনেকদিন ধরে কিন্তু ঠিকানা পাওয়া যায়নি। কোথায় রাখা আছে সেই শিশু শ্রমিক ছেলেটির ছুটি। পেটের তাগিদে তার ছুটি উধাও হয়েছে। স্কুল ছুট এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর প্রতি বছর ১২ জুন শিশুশ্রম বিরোধী দিবস এদেশে এসেছে, আবার চলেও গেছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপনে ঘোষণা করেছেন তাদের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যে কোন শিশুশ্রম ব্যবহৃত হয় না। হতেই পারে কিন্তু কে দেখতে যাচ্ছে ওই শিল্প সংস্থার কাঁচামাল যারা সরবরাহ করেন তারা শিশু শ্রমিককে ব্যবহার করেন না। এভাবেই আত্মপ্রতারণায় আমরা আমাদের দেশের শৈশব কে মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছি। মিশে যাচ্ছে অন্ধকারে আমাদের ভবিষ্যৎ। নিয়ম করে আগামী বছর আবার শিশুশ্রম বিরোধী দিবস আসবে । নিয়ম করে আবারো প্রচুর আলোচনা সভা হবে। আবারো দেখতে হবে রাস্তার চায়ের দোকানে,  গ্যারেজে,  বাসগুমটিতে,  হোটেলে, ছোটখাটো গ্রিল কারখানায় এমনকি রাজমিস্ত্রির কাজেও শিশুদেরকে লাগানো হয়েছে। কোন আইন এ সমস্যার সমাধান করতে পারে না যতদিন না পর্যন্ত আমরা এটা বুঝতে শিখবো যে  শিশুর আসল স্থান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেখানেই তাকে বিকশিত করতে হবে। তবেই বিকশিত ভারতের বিজ্ঞাপন প্রাণ পেতে পারে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে বুঝতে হবে এক সম্ভাবনাময় মানবসম্পদকে কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতায় নিমজ্জিত হচ্ছে আমাদের দেশ।

Comments :0

Login to leave a comment