Bangladesh President Mohammed Shahabuddin

ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের কারণ তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যগত সমস্যায় রয়েছে। এই মুহূর্তে আমার আর কিছু বলার নেই।’’ বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, তাঁর পদত্যাগপত্র নিয়ে প্রতিনিধিরা বঙ্গভবন থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁর মেয়াদের আরও প্রায় দুই বছর বাকি ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার পদত্যাগের গুজব জোরালো হয়ে ওঠে। পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তিনি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের একজন মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যমকেকে জানান, শাহাবুদ্দিনের প্রতিনিধিরা তার পদত্যাগপত্র নিয়ে সংসদের উদ্দেশে বেড়িয়ে পড়েছেন। পদত্যাগপত্রটি সংসদ স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, আমি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।
নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।


শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে যুব বিক্ষোভকারীদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং তার কিছুদিন পরেই একটি অন্তরবর্তি সরকারের সময়েও তিনি দেশের দায়িত্ব পালন করেন। 
চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের মে মাসের ৯ মে লন্ডনে যান শাহাবুদ্দিন এবং ১৮ই মে ফিরে আসেন। লন্ডন সফরকালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শাহাবুদ্দিন ফোনে কথা বলেছিলেন। 
মহম্মদ শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তৎকালীন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। তিনি তৎকালীন শাসক দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন এবং অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শাহাবুদ্দিন ছাত্র লীগের পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পাবনা জেলা ছাত্র লীগ ও যুব লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের জেলা শাখার প্রচার সম্পাদকও ছিলেন। শাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা এখন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment