Tea Gardens

ফের ছন্দে ফিরতে চলেছে দার্জিলিঙয়ের ৪টি চা বাগান

রাজ্য

Tea Gardens

নতুন মালিকানাধীনে অচলাবস্থা কাটিয়ে ফের ছন্দে ফিরতে চলেছে দার্জিলিঙ পাহাড়ের অর্গানিক টি এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন চারটি বাগান। নতুন মালিকানাধীনে রঙমুক সিডার, রঙ্গারুন, প্যান্ডাম এবং আলুবাড়ি এই চারটি চা বাগানে শনিবার থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হবে। শুক্রবার শ্রমদপ্তরের পক্ষ থেকে আহূত শিলিগুড়ি সংলগ্ন দাগাপুরের শ্রমিক ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। চামঙ গ্রুপ অব কোম্পানির অধীনে রঙ্গারুন, রয়্যাঠল রুবি অ্যান্ড টি অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডের অধীনে রঙমুক সিডার ও প্যান্ডাম এবং গ্রিন লিভ ভেঞ্জার এই কোম্পানির অধীনে আলুবাড়ি চা বাগানগুলিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু হবে। ২০২২সালের জুন জুলাই থেকেই দার্জিলিঙ পাহাড়ে অর্গানিক টি এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের হাতে থাকা দশটি বাগানের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বাগানগুলিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, বন্ধ দশটি চা বাগানের স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট শ্রমিক সংখ্যা প্রায় দশ হাজার।

 বাগানগুলিতে শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া হয়ে রয়েছে। এছাড়াও বিগত শারদোৎসবের প্রাপ্য বোনাস না দিয়েই বাগানগুলির মালিকপক্ষ বাগান ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে দশটি বাগানের মধ্যে ছয়টি বাগান নতুন মালিকপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। কিন্তু রঙমুক সিডার, রঙ্গারুন, প্যান্ডাম এবং আলুবাড়ি এই চারটি চা বাগানের অচলাবস্থা কাটেনি। বাগানগুলির অচলাবস্থা কাটাতে শুক্রবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ মাস ধরে চলে আসা অচলাবস্থা নিয়েই এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর অচল হয়ে থাকা দার্জিলিঙ পাহাড়ের এই চার চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় তিন সহস্রাধিক। প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক বন্ধ বাগানগুলিকে কাজ করতেন।

 নানা সমস্যার দরুন অচল হয়ে থাকায় এই চার বাগানের চা শ্রমিকেরা চরম আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। এদিনের এই বৈঠকে চিয়াকামান মজদুর ইউনিয়নের দার্জিলিঙ জেলা সহ সভাপতি রেজিনা চামলিঙ ও সাধারন সম্পাদক গৌতম ঘোষ সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রাথমিকভাবে বাগিচা শ্রমিকদের বকেয়া এক মাসের ওয়েজ ও স্টাফ সাব স্টাফদের স্যালারি মিটিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এই চার বাগানের স্থানীয় সমস্যাগুলি আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান করা হবে বলে এদিনের বৈঠকে চার বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। চায়ের উৎপাদন শীলতার এই উপযুক্ত মরশুমে দার্জিলিঙ পাহাড়ের এই বাগান পুনরায় খুলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া বইছে বাগিচা শ্রমিকদের মধ্যে। দার্জিলিঙ জেলা চিয়াকামান মজদুর ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক গৌতম ঘোষ বৈঠক শেষে বলেন, দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার সমাধান হয়েছে এটা অত্যন্ত ভালো দিক। 

আমরা আশাবাদী নতুন মালিকানাধীনে এই চার বাগান ভালোভাবে পরিচালিত হবে। বাগানের শ্রমিকদের প্রচুর পাওনা রয়েছে। সেই বকেয়া পাওনা ঠিকঠাকভাবে মিটিয়ে দেওয়া হবে বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাগান খুলে যাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। নতুন মালিকের হাতে আগামীদিনে বাগিচা শ্রমিকদের অধিকার যাতে কোনভাবেই খর্ব না হয় সেদিকে আমাদের শ্রমিক সংগঠনের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে।

Comments :0

Login to leave a comment