সদ্য শেষ হয়েছে ‘ইন্ডিয়া এ আই ইমপ্যাক্ট সামিট’। উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্ণধার বা প্রতিনিধি সহ বিপুল সমাগমে রীতিমতো মহোৎসবের চেহারা নিয়েছিল এই আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন। এর আগে ব্রিটেনে, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্সে এমন আন্তর্জাতিক সম্মেলন হলেও উন্নয়নশীল দেশে তথা গ্লোবাল সাউথে এমন সম্মেলন এটাই প্রথম। সেই দিক থেকে নিঃসন্দেহের ভারতের কাছে এটা গৌরবের বিষয়। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আয়ত্তে এনে ভারতের ভবিষ্যৎকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকার জানিয়েছে এ আই ক্ষেত্রে ২৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা হয়েছে সম্মেলনে।
এমন একটি সম্মেলনকে হাতের মুঠোয় পেয়ে নরেন্দ্র মোদী নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। যেমন তিনি বেপরোয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সময়। নেহরু জমানায় বান্দুং সম্মেলনে যেমন ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের একেবারে সামনের সারিতে উঠে এসেছিল অনেকটা তেমনই মোদী চেয়েছিলেন তাঁর নেতৃত্বে ভারত এ আই ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আসন পাক। তাই তিনি এ আই-কে ওপেন সোর্স হিসাবে সকলের সমানভাবে ব্যবহার করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। বলেছেন এই প্রযুক্তি জনকল্যাণে সহজলভ্য হোক।
মোদীর এহেন আবেদন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে আশার আলো দেখাবে। কেন না এ আই ক্ষেত্রে এই দেশগুলি কার্যত অন্ধকারে। এদের সকলকেই অগ্রগণ্য এ আই দেশের দয়ার উপর নির্ভর করতে হবে। তারা যেটুকু প্রযুক্তি দেবে তার উপর নির্ভর করে চলতে হবে। সেটাও পেতে হবে বিপুল অর্থ দিয়ে। তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হলেও এ আই প্রযুক্তিতে ভারত এই দেশগুলির মতই পিছিয়ে। ভারতে একটিও এ আই সংস্থা নেই। এই মুহূর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবচেয়ে এগিয়ে আমেরিকা। প্রায় সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছে চীন। অপরাপর দেশগুলি কমবেশি আমেরিকা-চীনের এ আই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
বর্তমানে যে গতিতে এ আই’র বিকাশ ঘটছে এবং সমাজ-অর্থনীতির সর্বক্ষেত্রে যেভাবে প্রভাব ফেলছে তাতে আগামী বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে যারা এ আই গবেষণা-উন্নয়নে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও ভারত এক্ষেত্রে বহু যোজন পেছনে। আসলে এ আই ছাতি ফোলানোর বিষয় নয়। শিক্ষা ক্ষেত্র সহ বিজ্ঞান গবেষণা ও প্রযুক্তি গবেষণায় পর্যাপ্ত ব্যয়-বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে না হলে এক্ষেত্রে এগনো যায় না। বিপুল অর্থ ব্যয় করে এমন সম্মেলন করে আত্ম প্রচার করা যায় কিন্তু তাতে এ আই সক্ষমতা বাড়ে না। অনেক টাকা লগ্নির প্রস্তাব এলেও কাজের কাজ হয় না। কারণ এ আই প্রযুক্তি যদি নিজেরা উদ্ভাবন করতে সক্ষম না হয় তবে ধার করা প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করা যাবে কিন্তু দুনিয়ায় কোনও প্রভাব ফেলা যাবে না। থাকতে হবে পরনির্ভরশীল হয়ে। চীন বহু দিন ধরে সেটা করছে শিক্ষা, বিজ্ঞান গবেষণা, প্রযুক্তি গবেষণা বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন নতুন উদ্ভাবন করে দুনিয়াকে চমকে দিচ্ছে। দুনিয়ায় নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। ভারত মেতে আছে প্রাগৌতিহাসিক ধর্মান্ধতা আর কুসংস্কারের মধ্যে।
editorial
শুধু সামিট করে হয় না
×
Comments :0