Md Salim on SIR

ভোটচুরির রোখার লড়াইয়ে খুঁটি বামপন্থীদের ঐক্য, বললেন সেলিম

রাজ্য কলকাতা

বক্তব্য রাখছেন মহম্মদ সেলিম। মঞ্চে বিমান বসু

এসআইআর আসলে আরএসএসের এজেন্ডা। গোটা দেশ জুড়ে যে ভাবে ঘৃণার চাষ করা হচ্ছে, একই ভাবে আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। সংবিধান যেই অধিকার দিয়েছে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। বাতিল করতে হবে এসআইআর। বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের নাম ফেরাতে হবে।
বৃহ্স্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ধর্মতলায় বামপন্থী দলসমূহের অবস্থানে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন সভার জায়গা সরাতে হয়েছে প্রশাসনের অনুমতি না মেলায়। সেলিম বলেছেন, বিজেপি মিছিল করবে বলে কলকাতা পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। যারা দেশে গণতন্ত্রকে শেষ করছে তারা গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে মিছিল করছে। এটা ফ্যাসিস্টদের চরিত্র।
সেলিম বলেন,  ভোট চুরির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করতে হবে। দড়ি টানাটানিতে একটা খুঁটি থাকে, বামপন্থীদের আজ সেই ভূমিকা পালন করতে হবে। বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেখতে হবে কোনও চোর যেন যেন এদিক থেকে ওদিক না আসে। যারা ভোট চুরি করেছে তাদের আগে পাপ স্খলন করতে হবে। আর এস এসের চর থাকে, অতীতে এরকম অনেক দেখা গিয়েছে। এই চোরদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। লড়াইতে যেন ফাঁকি যেন না থাকে। শত্রু পক্ষ গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
এদিন অবস্থানে সভাপতিত্ব করেন বামফ্রন্টের সভাপতি বিমান বসু। বক্তব্য রাখেন বামপন্থী দলগুলির নেতৃবৃন্দ। বক্তব্য রেখেছেন সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, গোটা দেশের মানুষ আজ বুঝে গিয়েছে এই প্রক্রিয়া আসলে ভোট চুরি। বিহারের ১০টি আসনের ১২০ বুথে সমীক্ষা করে আমরা দেখেছি গড়ে ২০ শতাংশ নাম অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন যে নাম তোলা হয়েছে তাতে ১০ শতাংশ ভুয়ো। দিল্লিতে দেখা গিয়েছে চারটি বুথে ৪১৬ জনকে মৃত বলে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক গরিব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। (আরও দেখুন: এসআইআর বাতিল না হওয়া পর্যন্ত চলবে লড়াই: বিমান বসু)
সেলিম বলেন, বিজেপি অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রচার করল। কিছু মিডিয়া সমর্থন করলো। আমরা বলেছিলাম কত অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ল সেই তালিকা প্রকাশ করুক সরকার। সেই তালিকা প্রকাশ হয়নি। তিনি বলেন, নদী ভাঙনে যেমন মন্দির মসজিদ দেখে না। এই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যেই চক্রান্ত থেকেও কেউ বাদ যাবে না। আজ অবস্থানে তাই যাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে তারা যেমন আছেন, যাদের আছে তারাও আছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটার তালিকা সংশোধন না হলে অনেক মৃত নাম থাকতে পারে। সেটা দেখার কাজ কমিশনের। ওরা বলল ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে মেলাতে হবে। তারপর বলল মানুষকে নিজের দায়িত্বে তালিকা মেলাতে হবে, কাগজ তৈরি রাখতে হবে। 


সেলিম বলেন, কোনও আইনে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’ বলে কথা নেই। জ্ঞানেশ কুমার অন্যায় ভাবে সেই কাজ করেছে। কোন আইনে আছে যে ছয় জন সন্তান থাকলে নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি’- তে থাকবে? এটা আরএসএস’র এজেন্ডা। 
তিনি বলেন, ওরা গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরেছে। আমাদের ভাষা পোশাক ধর্ম আলাদা হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ আন্দোলনের পর যে ঐক্য তৈরি হয়েছে সেটা ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। জরুরি অবস্থায় ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছিল কংগ্রেস, পরে তারা ভুল স্বীকার করেছিল। কিন্তু মানুষ তার বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াই করেছিল। বাবরি ধ্বংসের সময় মানুষ এক হয়ে লড়াই করেছিল। যখন রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয় তখন গোটা শেষ এক সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। 
সেলিম বলেন, আদানি আম্বানি আমাদের সব হাতের মুঠোয় নিতে চাইছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আগে যারা গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ করেছিল আজ তারাও পথে নামছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প এখন কমিউনিস্টদের ভূত দেখছে তাই বলছে কমিউনিস্টরা আমেরিকা দখল করতে চাইছে। আর এই দেশে বামপন্থীদের ‘দিমাগি নকশাল‘ বলছে। তিনি বলেন, আমাদের বলা আছে কী ভাবে জাতীয় পতাকা বহন করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে বলব রোজ হুক্কা হুয়া না করে একটু সেটা পড়ে নিতে। জাতীয় পতাকা ডান হাতে ডান কাঁধে রাখতে হয়। কারা বাঁ দিকে রেখেছিল। কলকাতা পুলিশ যদি বাপের বেটা হয় তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর নামে অভিযোগ দায়ের করুক। না হলে আমাদের ছাত্র-যুবরা করবে। তিনি বলেন, সবার ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। মোদীকেও যেতে হবে।
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, গোটা দেশ জুড়ে ভোট চুরির বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে। আমরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং শাস্তির দাবি তুলেছে। এসআইআর-এ প্রথমে মনে হয়েছিল খাঁটি ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র নোটিস চলে গিয়েছে। তখন বলছে যারা ভিআইপি তাদের কোন সমস্যা হবে না। মোদী সরকার ভোটাধিকার নিয়েও বৈষম্য তৈরি করেছে। 
ভট্টাচার্য বলেন, যেই পথে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করে নিতে পেরেছি সেই ভাবেই আমাদের জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ছিনিয়ে আনতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment