দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা তোতাপাড়া চা বাগানে ফের কাজের জোয়ার ফিরতে চলেছে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়ার জট কাটিয়ে বাগান খোলার পথ প্রশস্ত হল। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেপুটি লেবার কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখ থেকে বাগানে ফের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগান খোলার দিন অর্থাৎ ২৯ জুলাই প্রথম পাক্ষিক মজুরি ও প্রথম মাসের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালিকপক্ষ। এছাড়া, বকেয়া ৮ পাক্ষিক মজুরি এবং ৩ মাসের বেতন আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৭-এর মধ্যে ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য করা হয়েছে ডিআরডব্লিউ কর্মীদের জন্য ৭ ও ২২ তারিখ এবং এমআরডব্লিউ কর্মীদের জন্য ১০ তারিখ। সেইসঙ্গে বেতন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আইনগত পাওনাও ৩১ মার্চ, ২০২৭-এর মধ্যে পরিশোধের বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে। বাগান খোলার পাশাপাশি হাসপাতালের ওষুধ পরিষেবা অবিলম্বে চালু এবং আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে স্কুল বাস ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বাগান খোলার সিদ্ধান্তকে শ্রমিকদের সংগ্রামী ঐক্যের জয় হিসেবেই দেখছেন চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য তিলক ছেত্রী। তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন বাগান বন্ধ থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলো অমানবিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সমঝোতা চুক্তি কেবল একটি দলিল নয়, এটি আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল। আমরা মালিকপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়েছি—চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি পাওনা যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটানো হয়। ২৯ তারিখ থেকে বাগান খোলার পর আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখবো। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন সব সময় প্রহরী হিসেবে কাজ করবে।’’ সব মিলিয়ে তোতাপাড়া বাগানের এই নতুন পথচলায় শ্রমিক মহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করার অঙ্গীকার নেওয়ায় দীর্ঘদিনের এই সংকটের স্থায়ী অবসানের স্বপ্ন দেখছেন তোতাপাড়ার বাসিন্দারা।
Totapara Tea Garden
জট কাটিয়ে খুলতে চলেছে তোতাপাড়া চা বাগান
×
Comments :0