অনির্দিষ্টকালের অনশনের ২০তম দিনে পৌঁছে গিয়েও নিজের অবস্থানে অনড় রইলেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘২০ জুলাই পর্যন্ত যে করেই হোক বেঁচে থাকব।’ একই সঙ্গে সংসদ অভিমুখে ঘোষিত শান্তিপূর্ণ মিছিল সফল করার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন শুক্রবার ২৮তম দিনে পড়েছে। এদিন যন্তর মন্তরের আন্দোলন মঞ্চে পৌঁছে ওয়াংচুক ও অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তিনি আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াংচুক বলেন, ‘শারিরীক ভাবে আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি, কিন্তু মানসিকভাবে আগের মতোই শক্ত আছি। ২০ জুলাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সংসদের দিকে পদযাত্রা করবো। সেখানে গিয়ে আমাদের দাবি তুলে ধরবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০ জুলাই পর্যন্ত আমি যে করেই হোক বেঁচে থাকব।’
চিকিৎসকদের প্রকাশ করা সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়াংচুকের ওজন আরও ৩৫০ গ্রাম কমেছে। অনশন শুরুর পর থেকে মোট প্রায় ৯.৫ কেজি ওজন কমেছে তার। বর্তমানে তার ওজন ৫৬.৫৫ কেজি। রক্তচাপ ১০৮/৬৮ মিলিমিটার পারদ, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার, নাড়ির গতি প্রতি মিনিটে ৭২ এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৬ শতাংশ। চিকিৎসকদের মতে, তিনি সামান্য জলশূন্যতায় ভুগলেও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ অনশনের জেরে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনশন অব্যাহত থাকলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত অনশন প্রত্যাহার করবেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় দিল্লি হাই কোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত প্রশাসনকে প্রতিদিন ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, অনশনরত অন্য আন্দোলনকারীদের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের দাবি, অনশনরত নেহা, মনীশ ও আমিনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আমিনের ক্ষেত্রে জলশূন্যতার কারণে হাইপোভোলেমিক শকের আশঙ্কা রয়েছে, নেহার রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে ৪৯ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে নেমেছে এবং মনীশের শরীরের ওজন ১০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। তবুও ওয়াংচুকের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তারা অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্দোলনের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনও ক্রমশ বাড়ছে। পবন খেরার আগে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। এছাড়াও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব থ্যাকারে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
গত কয়েক দিনে অভিনেতা প্রকাশ রাজ, প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আতিশী, সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, বৃন্দা কারাত, সাংসদ অমরা রাম-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বুদ্ধিজীবীও আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। লেখিকা অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহ, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ সহ বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি দলও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। ২৮ জুন থেকে সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক। আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন শান্তিপূর্ণ সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে সংগঠন।
Sonam Wangchuk
‘২০ জুলাই পর্যন্ত যে করেই হোক বেঁচে থাকব’, অনশন মঞ্চ থেকে বার্তা সোনম ওয়াংচুকের
×
Comments :0