Sonam Wangchuk's Father

৪২ বছর আগে সোনামের বাবা বাধ্য করেছিলেন ইন্দিরাকে তার অনশন ভাঙাতে

জাতীয়

ইন্দিরা গান্ধীকে লাদাখে ছুটে গিয়ে তার অনশন ভাঙাতে বাধ্য করেছিলেন সোনাম ওয়াংচুকের বাবা সোনাম ওয়াংইয়াল। ১৯৮৪ সালে তিনি অনশন করেছেন লাদাখের মানুষকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। 
আসন্ন বাদল অধিবেশনে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নীতি কী হবে তা নিয়ে বৈঠক ছিল শুক্রবার। তাতে বহু সাংসদের কথায় উঠে আসে ওয়াংচুকের কথা। সূত্রের খবর, সেই সময়ই সোনিয়া গান্ধীর কথায় উঠে আসে ওয়াংচুকের বাবার প্রসঙ্গ। সোনাম ওয়াংচুক যে অনশন প্রতিবাদ চালাচ্ছেন তার প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী। উল্লেখ্য এই আন্দোলনের প্রথম দিকে কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধিকে যন্তর মন্তরে দেখা যায়নি। সোনামের আন্দোলনকে সোনিয়া সমর্থন দেওয়ার পর সেখানে শুক্রবার হাজির হন পবন খেরা।
রাজনৈতিক মহলের অনেকের মনেই এখন ভাসছে ৪২ বছর আগে ওয়াংচুকের বাবার সেই অনশন প্রতিবাদের কথা। লাদাখ তখন অবিভক্ত জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ। সেই সময় তাঁর অনশন ভাঙাতে ছুটে যেতে হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য, লাদাখের বিভিন্ন আদি জনজাতির মানুষের আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে ইন্দিরাকে আশ্বাস দিতে হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন সরকার দাবি বিবেচনা করবে। তারপর ওয়াংইয়াল তাঁর অনশন তুলে নেন। কিন্তু এবার সোনাম বা সিজেপির এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে কোন আধিকারিকদের পাঠানো হয়নি যারা গিয়ে প্রতিবাদীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
‘নিট’ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যেই দুর্নীতি, তার কারণে ১১ পড়ুয়া আত্মহত্যা করেন। এই পরিবারগুলির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই অনশন। ২০ দিনে পা দিয়েছে ওয়াংচুকের অনশন। বিশিষ্টরা বার বার তাঁর কাছে আবেদন করছেন অনশন তোলার জন্য কিন্তু তিনি তোলেননি। দিল্লি হাইকোর্টে এই নিয়ে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা, প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। কিন্তু তাও সরকার চুপ। যে দল আন্না হাজারের অনশনের সময় সরব ছিল আজ তারাই সরকারে আসীন থেকে ওয়াংচুকের সঙ্গে ন্যূনতম বার্তা বিনিময়ে নারাজ।
উল্লেখ্য পরিবেশ এবং লাদাখে শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে সোনামের। তার তৈরি করা শিক্ষা মডেল গোটা বিশ্বে সমাদৃত। এর আগে ২০২৪ সালে লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ৬৬ দিন তিনি অনশন করেন। দিল্লি পর্যন্ত করেন পদযাত্রা। সেই সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। রাজস্থানের যোধপুরের জেলে ছিলেন তিনি। সংবিধানের ৬ষ্ঠ তফসিলে লাদাখকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও করেন। লাদাখে প্রায় ৯৭ শতাংশ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। সংবিধানের ৬ষ্ঠ তফসিলে আদিবাসী প্রধান এলাকায় প্রশাসন এবং আর্থিক ক্ষমতার বিশেষ অধিকার দিয়ে স্বশাসিত পরিষদ গড়া যায়। ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বের চার রাজ্যে ১০টি স্বশাসিত পরিষদ রয়েছে। 
২০১৯’র ৫ আগস্ট কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পূর্ণ রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দু’টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ে। একটি জম্মু ও কাশ্মীর, অপরটি লাদাখ। কিন্তু কেন্দ্রের সংবেদনশীল এই এলাকার প্রকৃতি-পরিবেশ এবং সেই সঙ্গে জীবিকার গুরুতর সঙ্কট ঘিরে বাড়তে থাকে আন্দোলন।
২০২৪ এর মার্চে আলোচনা প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। সে সময় ওয়াংচুকের নেতৃত্বে টানা প্রায় ৬৬ দিনের অনশন চলে লেহতে। লোকসভা নির্বাচন এসে পড়ায় অনশন স্থগিত রাখেন ওয়াংচুক।
তবে সোনামের বাবা কংগ্রেসের ছাতার তলায় থেকে রাজনীতি করলেও সোনাম কখনও রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেননি। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় না থেকেই বাবার দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সোনাম।

Comments :0

Login to leave a comment