পরপর নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, এনটিএ’র চূড়ান্ত অব্যবস্থা ও অপদার্থতা এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক অধঃপতনের জন্য দেশের ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার আন্দোলনকারীদের উপর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর নির্বিচার ও বেপরোয়া হামলার দায় মাথায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ’র পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা ও তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে এমন ধারণাই সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে যে অমিত শাহর পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেছেন। রীতিমতো দাগী অপরাধী বা সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয় পুলিশ নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর তেমনই আচরণ করেছে। আন্দোলন ধুলোয় মিশিয়ে দেবার জন্য যা যা করণীয় আগাম পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে। লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে পেলেট বন্দুক, পেরেক লাগানো লাঠি, বিদ্যুৎবাহিত ব্যাটন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অত্যন্ত কুৎসিত ও কদর্য ব্যবহার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ঘাড়ে দায় চাপানোর জন্য যন্ত্রর মন্তরের পাশে পাথর ভর্তি লরি রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ পডুয়া আন্দোলনকারীদের দুষ্কৃতী প্রমাণ করতে যাবতীয় ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছিল।
উপরওয়ালা থেকে সবুজ সংকেত না এলে পুলিশের পক্ষে এমন দুঃশাহস দেখানো সম্ভব নয়। তেমনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর অগোচরে পুলিশ নিজ দায়িত্বে এমন বাড়াবাড়ি করেছে সেটা কোনও অবস্থাতেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটা ঠিক ছাত্রদের বিরুদ্ধে এমন হিংস্র ও বর্বর হয়ে উঠতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হয়তো নিজে পুলিশকে নির্দেশ দেননি কিন্তু বিক্ষোভ দমনে এবং আন্দোলনকারীদের উচিত শিক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় বার্তা অবশ্যই দিয়েছেন। আর যদি নাও দিয়ে থাকেন তাতেও তিনি দায়মুক্ত হতে পারেন না। দিল্লি পুলিশ এবং দেশের সমস্ত আধাসামরিক বাহিনী কাজ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর অধীনে। তাই তাদের সব কাজের দায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উপরই বর্তায়। অতএব দায় তাঁকেই নিতে হবে।
২০ জুলাই সংসদ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের উপর বর্বর হামলার অব্যবহিত পরেই সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ’র পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তারপর বিরোধী মহলের অন্যতম নিশানা হয়েছেন তিনি। অবশেষে কংগ্রেস নেতা তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সরাসরি পদত্যাগ দাবি করেছেন। এতবড় একটা ঘটনার পর অমিত শাহ কোনও কথা বলছেন না। সংসদে তুমুল আলোচনা বিতর্ক চললেও গরহাজির থাকছেন। কেন তিনি লুকিয়ে আছেন সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন না কেন? তাঁর গোচরেই যদি পুলিশ এমন বাড়াবাড়ি করে থাকে তাহলে তার দায় তাঁকে নিতে হবে। আর যদি তাঁর অগোচরে এসব হয়ে থাকে তাহলে তাঁর ব্যর্থতা ও অযোগ্যতাই প্রমাণ হয়। তাই পদত্যাগই তাঁর একমাত্র পথ।
সর্বশেষ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কোনোরকম রাখঢাক না রেখে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশী বর্বরতার জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকেই দায়ী করেছেন। দীপকের দাবি এই দায় নিয়ে অমিত শাহ’কে পদত্যাগ করতে হবে।
যতদিন যাচ্ছে ততই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে গোটা ঘটনার নেপথ্য নায়ক আসলে অমিত শাহ। তাই ধাপে ধাপে অমিত শাহ’র পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে এই দাবিতে পরবর্তীপর্বে আরও বড়সড় আন্দোলন দেশজুড়ে আছড়ে পড়বে। দাবি না মিটলে সেই আন্দোলন থামানো কঠিন হয়ে যাবে।
editorial
এবার অমিত শাহ
×
Comments :0