Post Editorial

ধসে পড়বে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা

উত্তর সম্পাদকীয়​


শ্রুতিনাথ প্রহরাজ

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় এত বড় বিপর্যয় অতীতে কখনো ঘটেনি। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়- সর্বস্তরে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও নৈরাজ্য বিপর্যস্ত করে তুলেছে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে। কার্যত বাৎসরিক অনুদান পাওয়া কিছু ক্লাব এবং সেই অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির  মধ্যেকার পার্থক্য এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দুটোই শাসক দলের দখলদারিতে চলে যাওয়ায় এক ধাঁচা পেয়েছে এবং এই সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১১ বছরে এই বিপর্যয়ে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রথম দিকে তা টের না পাওয়া গেলেও এখন তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছেন অভিভাবকমণ্ডলী সহ রাজ্যের মানুষ।

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ এর আগে দেখেনি তা নয়। বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশকের আধা ফ্যাসিস্ত সন্ত্রাসের সময় টার্গেট ছিল রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। পরীক্ষা ব্যবস্থায় ঢালাও টোকাটুকি মূল্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। সেই সময় এই নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করতে যাওয়ায়, ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে বহু শিক্ষক শিক্ষাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, এমনকি খুনও করা হয়েছে। তবু হাল ছাড়েননি তাঁরা। সমাজের সর্বস্তরের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মিলিত প্রতিরোধে রক্ষা পেয়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি।

বামফ্রন্ট সরকার আসার পর শিক্ষাকে গণমুখী করবার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রশাসন সুনিশ্চিত করবার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিল। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হওয়ার কারণে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষমুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ভেঙে দিল এই ব্যবস্থা। শিক্ষার সর্বস্তরে সামাজিক  নিয়ন্ত্রণের জায়গা নিল একচেটিয়া দলীয় নিয়ন্ত্রণ। বহুমুখী স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে শাসক দলের ছোট বড় মাঝারি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। প্রথম পাঁচ বছরে এই দখলদারি সুনিশ্চিত করতে বিস্তর হিংসার আশ্রয় নিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডাবাহিনী। ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এমনকি প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষিকা, অধ্যক্ষ, উপাচার্য— কেউ রেহাই পাননি এই আক্রমণের হাত থেকে। শুধু শিক্ষিকাকে লক্ষ্য করে জলের জগ ছোঁড়া নয়, পুরোদস্তুর আতঙ্কের আবহ তৈরি করা হয়েছে ক্যাম্পাসের ভিতরে ও লাগোয়া এলাকায়। বিরুদ্ধ মতের ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক আক্রমণের পাশাপাশি নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা হয়েছে। নতুন ধারার প্রশাসনিক আইন চালু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মত প্রকাশ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উদার অর্থনীতির আঁতুড়ে  বেড়ে ওঠা এই শাসক দল এটা ভালো বোঝে যে, প্রতিবাদের রাস্তা বন্ধ করতে পারলেই দুর্নীতি স্বজন-পোষণ ইত্যাদি পাকাপাকি করবার রাস্তায় কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া সম্ভব। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যে গোলমালের খবর আমরা পাই, তা মূলত বখরা ভাগাভাগি নিয়ে শাসকদলের নেতাদের মধ্যেকার মারামারি, বাইরের কেউ নেই ওখানে। বর্তমানের  বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে এই প্রেক্ষিতটুকু বোঝা খুব দরকার। শিকড় উপড়াতে না পারলে শিক্ষা ব্যবস্থার এই অনাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এখন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের স্বশাসনের গরিমা হারিয়ে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। ফলে বিদ্যালয় স্তরে পরীক্ষা ব্যবস্থায় চরম অরাজকতা ফিরে এসেছে। অবাধে টোকাটুকি চলছে, বছরের পর বছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাও তথৈবচ। কলেজের ভর্তি নিয়ে দুর্নীতি সর্বজনবিদিত। তোলাবাজির শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে একাধিক ছাত্র-ছাত্রী। এখানেও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের ভাগ বাটোয়ারায় এক ধরনের সিন্ডিকেটরাজ চালু হয়েছে বলা যেতে পারে।

সর্বস্তরে ঢালাও নম্বর বেড়ে যাওয়ায় মার্কশিটের ওজন বেড়েছে  একথা ঠিক, তবে বাস্তব জীবনে ছাত্র-ছাত্রীরা তার ফল লাভ করতে সক্ষম হচ্ছে না। উলটে প্রতি পদে বিড়ম্বনার শিকার। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন, আগে নম্বর দেওয়া হতো না তাই উনি এখন নম্বর অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ পরীক্ষকদের ভূমিকা যে এখানে গৌণ তা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার। বোঝাই যায়, সস্তার রাজনীতি করতে গিয়ে নেত্রী ও তার দলবল ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছেন। বিপদ বুঝতে পেরে বহু ছাত্র-ছাত্রী এখন ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য। ফলে রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রচুর আসন  ফাঁকা পড়ে থাকছে। নিয়োগের বাজার তলানিতে ঠেকায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিরও একই হাল। শুধু স্কুল কলেজের পরীক্ষা নয়, বর্তমান সরকারের আমলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরিচালনাধীন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাও প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে, যা অতীতে ভাবাও যেত না। এও সেই দখলদারির ফল যা এখন বিষময় আকার ধারণ করেছে।

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এখন যা বলার আদালত বলছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শিক্ষা দপ্তর এখন প্রেসিডেন্সি জেলে স্থানান্তরিত হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলায় এ ঘটনা নজিরবিহীন এবং চরম লজ্জার। জেল খাটছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি, উপাচার্য তথা এসএসসি’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ  ভট্টাচার্য, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি তথা বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রশাসক কল্যাণময় গাঙ্গুলি সহ  শিক্ষা দপ্তরের বহু কর্তা ব্যক্তি। বাকিরা জেলে ঢোকার রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে। সব মিলিয়ে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি উঠে এসেছে অভিজিৎ গাঙ্গুলির  এজলাসে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার একে ছোটখাট ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সাফাই গাইতে এও বলছেন, কাজ করতে গেলে তো এমন ভুল হতেই পারে। তাহলে ধরে নিতেই হয় তাঁর সমর্থনেই এই অনাচার ঘটেছে। নয়তো এই দুর্নীতির নিন্দা না করে এভাবে সাফাই গাইছেন কেন? অবশ্য কয়েক হাজার ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে এমন  দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা তাঁর পক্ষেই শোভা পায়। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের এহেন কর্মকাণ্ড দেখে রাজ্যের মানুষ ধিক্কার জানানোর ভাষাটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন।

ইতিমধ্যে সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১১ বছরে বিদ্যালয় স্তরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৮১৬৩ জন যুবক যুবতী যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে অনৈতিক উপায় আর্থিক লেনদেনের  সাহায্যে নিযুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৯৫২ জন নবম-দশমের শিক্ষক, ৯০৭ জন একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক, ৩৪৮১ জন  গ্রুপ সি এবং ২৮২৩ জন গ্রুপ ডি ভুক্ত শিক্ষাকর্মী। এরা অধিকাংশই সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছে। ও এম আর সিটে শূন্য বা এক নম্বর কে ৫২ বা ৫৩ নম্বর করা হয়েছে নিখুঁত কায়দায়। পেশাদার চোর জোচ্চররাও লজ্জা পাবে এদের কাণ্ডকারখানা দেখে। প্রাথমিকে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগের সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি। ২০১৪ বা ২০১৭ সালে যারা টেট উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের মার্কশিট, সার্টিফিকেট কিছুই দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশে তা হালে দেওয়া শুরু হয়েছে, তাও ত্রুটিপূর্ণ। দুর্নীতির শিকড় কত  গভীরে এর থেকেই তা অনুমান করা যায়।


মানিক ধরা না পড়লে আমরা জানতেও পারতাম না, রাজ্যের ছশোর কাছাকাছি বেসরকারি ডিএলএড কলেজে অর্থের বিনিময়ে এইমাত্রায় বেআইনি ভর্তি ও ডিগ্রি বিক্রি হয়। প্রাথমিকে তো জাল মার্কশিট দেওয়ার চক্রও ধরা পড়েছে। এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তার লাভ করেছে এখনও তা জানা যায়নি। শুধু এটুকু বলা যায় গোটা শিক্ষা দপ্তর দুর্নীতির পাঁকে ডুবে আছে। সরকারের অন্য দপ্তরগুলিও নিশ্চয়ই একই পথের পথিক। শুধু শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতি নিয়েই আদালতে ল্যাজে গোবরে অবস্থা রাজ্য সরকারের। সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে সমস্ত যোগ্য ও বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত সেই পদে নিয়োগ করতে হবে এটাই আদালতের সর্বশেষ বোঝাপড়া যা সরকার কৌশলে এড়িয়ে যেতে চাইছে।

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, নিয়োগ দুর্নীতির জন্য যে সমস্ত আবেদনকারী ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাদের নিয়োগের জন্য অতিরিক্ত শূন্য পদ (সুপার নিউমারিক) তৈরি করা হচ্ছে কেন? তবে কি পূর্বেকার ওইসব শূন্যপদে অর্থ ও অন্যান্য উপঢৌকনের বিনিময়ে বা শাসক দলের রাজনীতিকদের পারিবারিক কোটায় যেসব অযোগ্য প্রার্থী ইতিমধ্যে নিযুক্ত হয়েছেন তাদেরকে রেখে দেওয়া হবে? রাজ্য সরকার অন্তত আদালতকে ঠেকাতে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসাবে তাই চাইছে এটা পরিষ্কার। ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী বা তার সরকার চায় না অভিযুক্তদের কারো চাকরি যাক। তবে যোগ্য প্রার্থীদের আদালতের নির্দেশ মেনে চাকরি দেওয়া হবে। হিসেবটা পরিষ্কার— এতে করে আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির বোঝাপড়াও আড়াল করা গেল, অতিরিক্ত শূন্য পদে নিয়োগের ঢাকও পেটানো হলো বিস্তর! তা যদি হয় তবে বিপদ আরও বাড়বে শুধু তাই নয়, তা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে। আগে তো দুর্নীতির চোরাগলি দিয়ে ঢুকে পড়া এইসব অযোগ্য  শিক্ষক নামধারী মানুষগুলির নিয়োগ বাতিল করে এদের স্কুল ক্যাম্পাসে ঢোকা বন্ধ করা দরকার। বেকার ছেলেমেয়ে, চাকরিটা পেয়েছে যখন তাড়ানো ঠিক না— এইসব ছেঁদো আবেগের কোনও জায়গা এক্ষেত্রে থাকা ঠিক নয়। ভুলে গেলে চলবে না, এরা যোগ্য ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে অনৈতিকভাবে নিযুক্ত হয়েছে। তা না করতে পারলে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কয়েক প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রী যারা এইসব অযোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের ক্লাসরুমে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়  বসতে বাধ্য হবে। এদের কাছ থেকে কী শিখবে ওরা? শিক্ষা ব্যবস্থার এই গলদ শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, গোটা সমাজকে অসুস্থ করে তুলবে। পঙ্গু  হয়ে যাবে আগামী প্রজন্ম যারা সমাজ গড়ার কারিগর হতে পারতো।  কে দায় নেবে তার? আদালত তাই সঠিক যুক্তিতে অতিরিক্ত শূন্য পদে এইসব যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের বিরোধিতা করেছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ বাতিল করে ওই সব শূন্যপদেই যোগ্য প্রার্থীদের  নিয়োগ সুনিশ্চিত করতে হবে, অতিরিক্ত শূন্যপদ সৃষ্টি করে নয়। এতে ন্যায়বিচার যেমন সুনিশ্চিত হবে, সমাজটাও বাঁচবে।


আদালতের নির্দেশে সিবিআই বা ইডি’র এই তদন্ত কতদূর এগোবে বা কতদিন চলবে আমরা জানি না। মহামান্য বিচারপতিরাই এ নিয়ে বারংবার সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিজেপি-র সাথে সেটিং যে চলছে সে বিষয়ে আমরাও কম বেশি ওয়াকিবহাল। কোনোমতেই এজেন্সি যাতে মাথার দিকে হাত না বাড়ায়, তা সুনিশ্চিত করতে এই সেটিং।  ইতিমধ্যে দুর্নীতির এই ডামাডোলে রাজ্য সরকার চুপিসারে সর্বনাশা কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি এই রাজ্যেও চালু করার বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলেছে। হতে পারে সেটিং-এর শর্তই ছিল এটা। এমনিতেই শিক্ষাক্ষেত্রে ঢালাও বাণিজ্যিকীকরণ চলছে রাজ্যজুড়ে। নানা অজুহাতে বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি সরকারি স্কুল। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় একের পর এক আরএসএস’র স্কুল গড়ে উঠছে সারা রাজ্যে। এবার বাকি কাজটুকুও সেরে ফেলার পালা। নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে অধ্যাপক পবিত্র সরকার, উপাচার্য সুরঞ্জন দাস প্রমুখদের নিয়ে গড়া কমিটির সুপারিশ ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে তৈরি হলো অভীক মজুমদারের নেতৃত্বে নতুন কমিটি। এই দুই কমিটির সুপারিশের বিন্দু বিসর্গ আমরা জানার সুযোগ পেলাম না, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা দরকার ছিল। কেন এই কমিটি রাজ্যের শিক্ষক শিক্ষাকর্মী আধিকারিক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠনগুলির সাথে মত বিনিময় করবে না? কোন স্বার্থে এই গোপন বোঝাপড়া তা জানা দরকার।

সময় এসেছে সমন্বিত আন্দোলন গড়ে তুলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এই বিপর্যয় প্রতিরোধ করার। শুধু দুর্নীতির তদন্তের দাবি নিয়ে আন্দোলন নয়, সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচাতে শিক্ষার স্বার্থের সাথে যুক্ত সব মানুষ ও সংগঠনের একজোট হওয়া জরুরি। দেশের শিক্ষা বিকোচ্ছে কর্পোরেটের হাতে ও হিন্দুত্বের আখড়ায়। রাজ্যের শিক্ষা এখন দুর্নীতিবাজ মাস্তান আর লুটেরাদের দখলে। এই যৌথ আক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ জরুরি। শিক্ষা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। একে রক্ষা করতেই হবে।
 

0 Comments

Login to leave a comment