গল্প
মুক্তধারা
-------------------------------
পথে এবার নামো সাথী
-------------------------------
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
হঠাৎ করেই যেন দেখা হয়ে গেল। বিধান একাই রাস্তা দিয়ে চলছিল । সামনে থেকে হাতটা টেনে ধরলো সমরেশ।
' কি ব্যাপার বাবু,এত রাতে কোথায়?'
বাবু বিধানের ডাক নাম। খুব অল্প লোকই ডাকে এ নামে। হঠাৎ এই নামটা শুনে চমকে তাকায় বিধান।
'আরে সমরেশ, তুমি কোথায় যাও?'
সমরেশ কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটা থেকে একটা ছোট বই
বের করে বিধানের হাতে দিল। লাল মলাটের ছোট বইটায় গ্ৰামবাংলার মানুষের ছবি।তারা পতাকা হাতে হেঁটে চলেছে। শহরের দিকে। বিধান বইটা হাতে নিয়ে সমরেশের মুখের দিকে তাকায়,বলে
'সমরেশ তুমি এখনও!'
কিছুটা বিস্ময় কিছুটা স্বপ্ন মেশা প্রশ্ন করে বিধান।
সমরেশ কাঁধের ঝোলাটা ঠিক করতে করতে মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে বলে,
-'এটাই তো আমার কাজ বিধান, এটাই জীবন। সময় বদলের জন্য চলতে হবে। বারবার ব্যর্থ হতে পারি, আঘাত পেতে পারি,তবু কাজ করতে করতে চলতে চাই বিধান'
বিধান আবার লাল মলাটের বইটা একদিক থেকে অন্যদিকে পাতা উল্টিয়ে চলে। চলমান পাতা আর সমরেশ একাকার হয়ে যায়।
সমরেশ রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। বিধান একটু একটু করে হাঁটতে থাকে বাড়ির দিকে। বারবার সমরেশের কথা গুলো কানে বাজে। মনে হয়, সমরেশ তার সমবয়সী ইস্কুলের বন্ধু হলেও সে পেরেছে জীবনটাকে বুঝতে,বাঁচার পথ খুঁজতে।
মনের আলোড়ন বিধানকে নিয়ে চলে বারবার ঐ বইটার দিকে।তাকেও বেরোতে হবে। পথে না নামলে,সময় বদলানোর কাজে না মিললে সে শান্তি পাবে না।
Comments :0