Potatoes Farmers

হিমঘরেই পড়ে আছে আলু, বিপাকে আলুচাষি থেকে ব্যবসায়ী

জেলা

জয়ন্ত সাহা: কোচবিহার
বাজারে আলুর দাম নেই। হিমঘরে মজুতের সিংহভাগ এখনও পড়ে আছে। ব্যাপক ক্ষতির আশংকা। বিপাকে আলুচাষি, ব্যবসায়ী, এমনকি জমি লিজ নিয়ে আলু চাষ করা বেকার যুবকেরা!
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজ্য সরকারের আলু রপ্তানী বন্ধের নির্দেশিকা এবং গত মরশুমে ব্যপক উৎপাদন তার জেরেই কোচবিহার জেলার আলুচাষি থেকে ব্যবসায়ী ও বেকার যুবকদের পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। ঋণের ফাঁসে জড়িয়েছেন প্রত্যেকেই। অবিক্রিত আলুর পাহাড়, বাড়ছে কৃষক-ব্যবসায়ী-বেকার যুবকদের উদ্বেগ যেমন বাড়ছে তেমনি চিন্তায় হিমঘরের মালিকেরাও। হিমঘরের ভাড়া উঠবে কি করে? সেই চিন্তাই এখন তাদের।
কোচবিহার জেলার বিভিন্ন হিমঘরে এখনও বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু অতিরিক্ত ফলন নয়, রপ্তানি বাজার সংকুচিত হয়ে যাওয়াও এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে  আগামী মরসুমে কৃষকরাও চাষে অনুৎসাহিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে ২২টি হিমঘর আছে, যার মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। নিশিগঞ্জের দুটি হিমঘরেই প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ প্যাকেট আলু মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন মরসুম শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকলেও এখনও পর্যন্ত বের হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার প্যাকেট। অর্থাৎ ওই দুই হিমঘরে প্রায় ৫ লক্ষ প্যাকেট আলু এখনও পড়ে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আলু প্রধানত ওডিশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে অসমে, বিপুল পরিমাণে যেত। ওই সময় তৃণমূল সরকার সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সেই বাজারে ধীরে ধীরে পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের ব্যবসায়ীরা জায়গা করে নেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ফলে বর্তমানে যোগান বেড়েছে। চাহিদা সেই হারে বাড়েনি। এই ভারসাম্যহীনতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে মজুতদার ও ব্যবসায়ীদের। 
কৃষি ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নতুন বাজার তৈরি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে আগামী মরসুমে কৃষকরাও আলু চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের আলু অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংকট কতটা তীব্র সেটা বোঝা গেল সতীশ রায়,অমূল্য সরকারদের কথায়। হিসেব কষে দুজনেই বুঝিয়ে দিলেন,  এক লরি(১০ টন) জ্যোতি আলু মাঠ থেকে কিনে হিমঘরে ঢোকানো, হিমঘরের ভাড়া চুকিয়ে ফের বাইরে বের করে আড়তদারকে বিক্রি করা পর্যন্ত শুধু খরচই হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। সোমবার সেই ১০  আলু হিমঘর থেকে বের বিক্রি করে হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকায়। বিপাকে ছোট ব্যবসায়ীরাও।

Comments :0

Login to leave a comment