TET Primary Teachers

মন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও টেট নিয়ে ধোঁয়াশায় শিক্ষকরা

রাজ্য

কারোর চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করছেন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী। অন্যদিকে টেট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করতেই হবে বলে দায় ঝেড়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি। ফলে টেট নিয়ে সরকারের আগামী পরিকল্পনা কী, সেই ধোঁয়াশা কাটল না। শিক্ষকদের দাবি,মন্ত্রী যতই আশ্বাস দিন, সময়সীমা যত কাছে আসছে টেট নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ততই বাড়ছে। 
শুক্রবার বাধ্যতামূলক টেট বাতিল এবং বকেয়া সহ সমস্ত ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে আবারও বিক্ষোভ দেখায় নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (এবিপিটিএ)। সল্টলেকে বইমেলা প্রাঙ্গণের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেন শিক্ষকরা। সেইসঙ্গে ওকাকুরা ভবনের সামনে থেকে বিকাশ ভবন অভিযানও করেন তাঁরা। বিপ্লব ঝাঁর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিকাশ ভবনে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর হাতে তাঁদের স্মারকলিপি তুলে দেন। অন্যদিকে আব্দুল মহিদের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে পনেরো দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার অগে রাজ্যে নিযুক্ত শিক্ষকদের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত বাধ্যতামূলক টেট থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। অন্যান্য রাজ্যের মতো বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করে তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। শিক্ষকদের বক্তব্য, রাজ্যে টেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বর্তমান ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠির বাইরে কর্মরত শিক্ষকদের অনেকেই। উচ্চ মাধ্যমিকের ৫০ শতাংশ নম্বরের পাশাপাশি ডিএলএড প্রশিক্ষণ জরুরি। ফলে এমন শিক্ষকদের এনসিটিই নির্ধারিত যোগ্যতা মান অর্জনে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এই প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টেটের বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। এ নিয়ে রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দাখিল করার দাবি শিক্ষকদের। এছাড়া গ্রান্ট ইন শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া, বদলি, রাজ্য স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের আওতাধীন করা, বেতন বৃদ্ধি, স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নয়নের দাবিও জানান তাঁরা। 
বিকাশ ভবনে স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণের সঙ্গে আলোচনায় মন্ত্রী শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানায় এবিপিটিএ। তবে মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করতে পারছেন না শিক্ষকরা। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালনে তাঁরা দায়বদ্ধ। ফলে এই সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রকৃত পরিকল্পনা কী তা নিয়ে ধন্ধে শিক্ষকরা। এবিপিটিএ’র সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডলের বক্তব্য, দুই দপ্তর দুই রকম কথা বলছে। দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে দুটি বক্তব্যে। ফলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। নির্বাচনের আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও বলেছিলেন টেট সমস্যার সমাধান করবেন। এখন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রীও বলছে চাকরি যাবে না। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, সরকার কী করতে চাইছে স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই টেট পরীক্ষা কবে নেওয়া যাবে তা জানতে চেয়েছিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। ফলে হরেকরকম কথা বলে আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে সরকার। টেট নিয়ে সরকারের আগামী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে স্কুল শিক্ষা মন্ত্রীকে যোগাযোগ করা হলে, কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি তাঁর।
এদিন এবিপিটিএ’র ডাকা অবস্থানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ তথা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি সুদিন চট্টোপাধ্যায়, ১২ই জুলাই কমিটির নেতৃত্ব সুমিত ভট্টাচার্য, রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরি, কিংকর অধিকারী, সুদীপ্ত নারায়ণ গোস্বামী, চিন্ময় চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল সহ সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্যরা। বক্তব্য রাখেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সরকারের কাজ ছিল রাজ্যের বন্ধ হওয়া স্কুল পুনরায় চালু করা, স্কুল ছুট হওয়া পড়ুয়াদের পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে আনা। তা না করে, এভাবে রোজ শিক্ষার ওপর আক্রমণ হানা হচ্ছে। শিক্ষকদের নিয়ে এভাবে একের পর এক নিয়ম নীতি চালু করে হেনস্তা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের রাজনীতি করা যাবে বলে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দাও করেন তিনি।  মোহনদাস পণ্ডিত, দেবাশীষ দত্ত, মহম্মদ আলাউদ্দিন, মানসী চক্রবর্তীকে নিয়ে গঠিত সভাপতি মণ্ডলী এদিনের সভা পরিচালনা করেন।

Comments :0

Login to leave a comment