Amit Shah

সংসদে এসআইআর বিতর্কে রাহুল-অখিলেশকে অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ

জাতীয়

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবকে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আলোচনার চ্যালেঞ্জ জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এসআইআর নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে বিজেপি প্রস্তুত। এই বিষয়ে তাদের কিছুই লুকোনোর নেই। বিরোধীদের উদ্দেশে শাহ বলেন, সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিতর্ক হোক। উল্লেখ্য এর আগে মণিপুর সহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে যখন আলোচনার দাবি জানিয়েছিল তখন তা এড়িয়ে গিয়েছিল সরকার। 
শাহের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন এসআইআর-এর প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সরকারি বাসভবনের সামনে বিকেল সাড়ে তিনটেয় এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা স্থগিত করা হয়। শনিবার একই সময়ে এই কর্মসূচি হবে বলে জানানো হয়েছে। রবিবার রামলীলা ময়দানে এসআইআর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া মঞ্চের সমাবেশের আগে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা।
অমিত শাহ বলেন, ‘আমি এখান থেকেই রাহুল গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। বিজেপি সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের কিছু লুকোনোর নেই। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।’ বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত করার অভিযোগও করেন তিনি। তার বক্তব্য, বিরোধীরা সংসদে আলোচনা করতে চান না, বরং সেখানে হইচই করে অধিবেশন অচল করে রাখেন।
রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে শাহ বলেন, তিনি কখনও সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করবেন না, বরং রাস্তায় নেমে গোলমাল করবেন। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজেপির বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, পুদুচেরি, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় বিরোধীদের হতাশ করেছে। বাংলার নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তার দাবি, নির্বাচনে জিততে না পেরে বিরোধীরা এখন ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে। তার কথায়, নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে বিরোধীরা আম্পায়ারের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ করছে।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছেন। দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের পৌঁছনোর পথে কেন্দ্রীয় সরকার বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।
অক্টোবরের গোড়া থেকেই এসআইআর বন্ধ করা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর-পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে ইন্ডিয়া মঞ্চের দলগুলি। বিরোধীদের দাবি, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা সংশোধনের আগের মোট ভোটার সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ।
২০২৫ সালের বাদল অধিবেশনে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনকে কেন্দ্র করে বারবার মুলতুবি হয়েছে সংসদের অধিবেশন। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাজকর্ম কার্যত হয়নি। শীতকালীন অধিবেশনে সরকার নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে এসআইআর নিয়ে সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি। পরিবর্তে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনায় সম্মতি দিয়েছিল।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সংসদে বিতর্ক চলাকালীন রাহুল গান্ধী তার ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত তিনটি সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয় নিয়ে অমিত শাহকে আলোচনার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। জবাবে শাহ জানিয়েছিলেন, সংসদে তিনি কখন বক্তব্য রাখবেন, তা তিনি নিজেই ঠিক করবেন। পরে বিরোধী সাংসদরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের আনা প্রস্তাবের নোটিশ লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন খারিজ করে দেন।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি স্নাতক ও শিক্ষক আসনের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অমিত শাহের এই চ্যালেঞ্জ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওই নির্বাচনে বিজেপি ছয়টি এবং সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছে। ফলে বিজেপি নিজেদের আগের আসনসংখ্যা ধরে রাখতে পারলেও সমাজবাদী পার্টি তিনটি আসন থেকে বেড়ে পাঁচটি আসন পেয়েছে।
এই ফলকে বিজেপির ‘দ্বিগুণ পরাজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অখিলেশ যাদব। তার দাবি, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির জয়ের ভিত তৈরি করে দিয়েছে এই ফল।
লখনউয়ের সভায় অমিত শাহ অবশ্য উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। রামায়ণের অঙ্গদের পায়ের উপমা দিয়ে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার অঙ্গদের পায়ের মতোই অটল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পরপর তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার দাবিও করেন তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment