বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় মঙ্গলবার রাত থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টিপাত চলছে। জলপাইগুড়িতেও বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। কখনও মেঘলা আকাশ, কখনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টি ও হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও, দীর্ঘ গরমের পর স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে, শহরের কয়েকটি নিচু এলাকায় সামান্য জল জমলেও বড় ধরনের জলমগ্নতার খবর এখনও নেই।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার জলপাইগুড়িতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শুক্রবার ফের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১টায় মৌসম ভবনের জারি করা বিবৃতিতে ‘অর্ণব’-র উল্লেখ নেই। গভীর নিম্নচাপের প্রভাব সম্পর্কেই দেওয়া হয়েছে পূর্বাভাস। তবে সাইক্লোনের অনুমান করেই তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অর্ণব’। অন্ধ্র প্রদেশের কলিঙ্গপত্তনম এবং ওড়িশার উপকূল এলাকায় এর মধ্যে ঝড়বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মৎস্যজীবীদের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দুই মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর বলছে এটিই মরশুমের শেষ নিম্নচাপ।
বৃষ্টির মধ্যেই তিস্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেখলিগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা অব্যাহত। পাহাড়ে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ায় গজলডোবা ও কালিঝোরা ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়া হচ্ছে। সেচ দপ্তরের ফ্লাড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল সাতটায় গজলডোবা থেকে ১০৪৫ কিউসেক এবং কালিঝোরা থেকে ১০৫৪ কিউসেক জল ছাড়া হয়।
এরই মধ্যে তিস্তার ভাঙনে বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের কৃষকরা। প্রবল স্রোতে কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ভাঙন ঠেকাতে বাঁশের পাইলিং করে অস্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হলেও স্রোতের টানে সেই ব্যবস্থাও ভেসে গিয়েছে। ফলে ফের ভাঙনের মুখে পড়েছে চাষের জমি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল রহমান বলেন, “জমিতে ধান দাঁড়িয়ে রয়েছে। নদী যেভাবে এগিয়ে আসছে, ফসল বাঁচানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।” আর এক কৃষক রহিম মন্ডলের-এর কথায়, “আজ ফসল বাঁচাতে কাঁচা ধান কেটে ঘরে তুলছি। কিন্তু জমিটাই যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে আগামী দিনে কী করে চাষ করব?”
কৃষকদের অভিযোগ, বারবার অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বাঁশের পাইলিং নয়, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তার ভাঙন রুখতে হবে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে নদীর জলস্তর ও স্রোত আরও বাড়ার আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে।
Jalpaiguri Weather
গভীর নিম্নচাপের জেরে শুরু বৃষ্টি, তিস্তাপাড়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের
ছবি- অর্ণবের প্রভাবে জলপাইগুড়িতে শুরু বৃষ্টিপাত।
×
Comments :0